লাক্ষা পোকা থেকে প্রাপ্ত রজনে ভাগ্য বদলেছে গোপালগঞ্জের অন্তত ৪০০ মানুষের। এ পোকায় আক্রান্ত গাছ থেকে রজন সংগ্রহ করে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন তারা। এভাবে প্রতিদিন একজন দিনমজুর ১ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত আয় করতে খণ্ডকালীন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। তিন বছর আগে গোপালগঞ্জ শহরের গোবরা সোবাহান সড়কে রজনের ব্যবসা শুরু করা সোহেল রানা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে রজনের ব্যবসা হয়। তিন বছর আগে এখানে রজন সংগ্রহ ও বিপণন শুরু করি। এখানের মানুষ এ সম্পর্কে কিছুই জানত না। গোপালগঞ্জের দিনমজুর শ্রেণির অন্তত ৪০০ মানুষ রজন সংগ্রহ করে আমার কাছে বিক্রি করেন। অপ্রচলিত প্রক্রিয়াজাত পণ্যটি আমি প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনি। পরে সপ্তাহে দুই দিন ১৫ থেকে ২০ মণ রজন ট্রাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কারখানায় পাঠাই। তারা রজন দিয়ে কাঠের রঙের কাজে ব্যবহৃত গালা তৈরি করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রজন ভারতে পাঠানো হয়। লাক্ষা পোকা সম্পর্কে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাহমিনা বেগম বলেন, লাক্ষা পোকা রেইনট্রির ডালের রস খেয়ে জীবন ধারণ করে। তাদের শরীর থেকে এক ধরনের আঠালো পদার্থ নিঃসৃত হয়। এগুলো গাছের ডালেই লেগে থাকে। এটি সেখানে রজন আকার ধারণ করে। সংগ্রাহকরা প্রথম পোকামাকড় আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করেন। তারপর গাছে উঠে আক্রান্ত ডাল কেটে ফেলেন। তারপর তারা ডালগুলো থেকে ঘষে রজন সংগ্রহ করেন। রজন ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
ফরিদপুর বন বিভাগের ডেপুটি ফরেস্টার বীবেকানন্দ মল্লিক বলেন, রেইনট্রির রজন সমৃদ্ধ ডালপালা সংগ্রহকারীরা কেটে নেন। এতে গাছের মালিক, সংগ্রহকারী ও আড়তদাররা লাভবান হন। লাক্ষা আক্রান্ত ডাল কেটে নিলে রেইট্রিতে আবার নতুন ডাল গজায়। এ ছাড়া বরই, বাবরা ও পলাশ গাছেও লাক্ষা পোকার সংক্রমণ হয়।