বাংলাদেশের কৃষিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একদিকে যেমন সবজি, পিঁয়াজ, তেলবীজ, ভুট্টা ও মসলাজাত ফসলে উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে মসুর ডাল, আখ ও প্রধান কয়েকটি ফলের উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গতকাল প্রকাশিত সর্বশেষ ফসল উৎপাদনের পরিসংখ্যান জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, শস্য, সবজি ও তেলবীজ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা থাকলেও ডাল ও ফল খাতে আবাদ কমায় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শস্য খাতে সবচেয়ে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে ভুট্টায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শীতকালীন ভুট্টা চাষ হয়েছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৮ একর জমিতে, যেখানে একরপ্রতি ফলন দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৬ কেজি। এতে মোট উৎপাদন হয়েছে ৪৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজার টন বেশি। গ্রীষ্মকালীন ভুট্টার উৎপাদনও বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৯ টন। তবে যব ও জোয়ারের মতো গৌণ শস্যে আবাদ ও উৎপাদন কমেছে।
ডাল খাতের জরিপে মসুর ডালের তথ্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক। মসুর ডালের উৎপাদন এক বছরে কমে নেমে এসেছে ১৬ হাজার ৬৯৪ মেট্রিক টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মসুর ডাল উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১২৪ টন। মুগ ডালের উৎপাদন বেড়েছে। যেখানে আগের বছর ১ লাখ ২১ হাজার ২৭৬ একর জমিতে উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার টনের বেশি, এবার ৩ লাখ ১১ হাজার ৩১ একর জমিতে মুগ ডাল উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৫২ টনে। খেসারি ডালের উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে, যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৩০ টন। ভোজ্য তেল খাতে তুলনামূলক ইতিবাচক চিত্র দিয়েছে বিবিএসের জরিপ।
সরিষা (স্থানীয় ও উন্নত জাত) উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫ টনে, যা গত বছর ছিল ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৫ টনে। তিল, চীনাবাদাম ও সয়াবিন সব কটি ফসলেই উৎপাদন বেড়েছে। তবে নারিকেল উৎপাদন ২ হাজার ৬৩৩ টন কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৯ টনে। পিঁয়াজের উৎপাদন এক বছরে প্রায় ৩ লাখ টন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ টনে। এ ছাড়া রসুনের উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন, হলুদ হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৮ টন, এবং আদা উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩০৭ টনে। সবজি খাতে জরিপের তথ্য সবচেয়ে শক্তিশালী। শীতকালীন সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ৬ লাখ ৩৬ হাজার, ফুলকপি ৫ লাখ ৭৯ হাজার, টম্যাটো ৫ লাখ ৩৮ হাজার ও বেগুন প্রায় ৫ লাখ টন উৎপাদন হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে কুমড়া, করলা, ঢ্যাঁড়শ ও শসার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জরিপ বলছে, সবজি উৎপাদনে একরপ্রতি ফলন বৃদ্ধিই এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
দেশের প্রধান ফল আমের উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৯৪০ টনে। কাঁঠালের উৎপাদন নেমে এসেছে ১০ লাখ ২০ হাজার ৮২১ টনে। তবে পেয়ারা উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪০৫ টন। অস্থায়ী ফলের মধ্যে তরমুজের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ১২১ টনে। আখের উৎপাদন কমে হয়েছে ২৯ লাখ ২২ হাজার ৪৬৮ টন। অন্যদিকে আমেরিকান তুলার উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৬০ হাজার ৮৪৮ বেল। মোট তামাক উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭১৭ টনে। তবে চা উৎপাদন কমে নেমে এসেছে ৯১ হাজার ২২৮ টনে।