রাজধানীর তেজগাঁও পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগরী উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন শুটার জিন্নাত এবং তার সহযোগী বিল্লাল ও রিয়াজ। শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় আরেক শুটার রহিমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ডিবির একাধিক টিম। গ্রেপ্তার বিল্লাল ও পলাতক শুটার রহিম আপন ভাই। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সবাই রাজধানীর মহাখালীর সন্ত্রাসী বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছেন, মুছাব্বিরকে হত্যা করতে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে। তবে ঠিক কার নির্দেশে, কী কারণে মুছাব্বিরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় তা নিশ্চিত করেনি ডিবি পুলিশ। তবে হত্যার আগের দিন কিলিং মিশনের এক সদস্য ঘটনাস্থল রেকি করে যান। পর দিন বিকাল ৫টা থেকে মুছাব্বিরের ওপর নজর রাখেন বিল্লাল ও রিয়াজ। ঘটনাস্থলে ওঁত পেতে থাকেন জিন্নাত ও রহিম। স্টার হোটেল থেকে বেরিয়ে মুছাব্বির ও সুফিয়ান বেপারী মাসুদ তেজতুরী বাজারের আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে গেলে বস্তা থেকে পিস্তল বের করে আতর্কিত গুলি করা শুরু করেন তারা। দুই শুটার দুটি পিস্তল দিয়ে ৩ রাউন্ড করে ৬ রাউন্ড গুলি করেন। পেট ও মাথায় গুলি করার পরিকল্পনা থাকলেও মুছাব্বির পড়ে গেলে শুধু পেটেই ৩টি গুলি লাগে। এরপর কিলিং মিশনের সব সদস্য বিচ্ছিন্নভাবে ঢাকা ত্যাগ করেন। পুলিশ যাতে শনাক্ত করতে না পারে সেজন্য নিজেদের মোবাইল বন্ধ করে যে-যার মতো পালিয়ে যান।
সূত্র জানিয়েছেন, কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি কেন্দ্র করেই মুছাব্বিরকে হত্যার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। জানা গেছে, মুছাব্বিরের অনুসারীরা মোটা অঙ্কের চাঁদা তুলতেন। সেই টাকার বেশির ভাগ অংশ মুছাব্বির নিজে ভোগ করতেন। এতে তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর প্রতিপক্ষ যারা চাঁদা ওঠাতেন, তাদের অনেকেই কয়েক মাস ধরে মুছাব্বিরের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাজে লাগিয়ে মুছাব্বিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এই ক্ষুব্ধ হওয়াদের মধ্যে কেউ। তবে মাস্টারমাইন্ড সম্পর্কে নিশ্চিত করেননি তদন্তকারীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, কিলিং মিশনের সদস্যদের ভাড়া করা ও মাস্টারমাইন্ডের মাঝখানে কয়েকটি লেয়ার রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মুছাব্বির নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দুই শুটারের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পায়। তখনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছিল, দুই শুটারসহ কিলিং মিশনে আরও কয়েকজন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন এবং তারা ভাড়াটে কিলার।