চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমাদেরর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর্যাপ্ত গ্রাউন্ড (যুক্তি, তথ্য-প্রমাণ) রয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার আগে এই বিচারপতি দুই আসামিকে জিজ্ঞেস করেন, তারা দোষ স্বীকার করেন কি না। জবাবে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালের কাছে ন্যায়বিচার চান। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান। তাদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এ মামলায় প্রসিকিউশনের ‘সূচনা বক্তব্য’ উপস্থাপনের পর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করা হয়েছে। ঢাকার সদরঘাট এলাকা দিয়ে নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে আছেন। ওই বছর ২৭ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাদের।
আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যাসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- জুলাই-আগস্টের গণ আন্দোলন দমনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ২৮৬টি মিথ্যা মামলা করা। মামলায় আসামি করা হয়েছিল সাড়ে ৪ লাখ আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে।
শিগগিরই আরও ১০ তদন্ত প্রতিবেদন : জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় ১০টি প্রতিবেদন চলতি মাসেই পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন।
শাপলা চত্বরে গণহত্যার অভিযোগের প্রতিবেদন দিতে ৩ সপ্তাহ সময় : শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও তিন সপ্তাহ সময় পেয়েছে প্রসিকিউশন। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। তিনি এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন। পরে তার আবেদন মঞ্জুর করে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।