বেচাকেনায় জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গতকাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ছিল ১৪তম দিন ও দ্বিতীয় শুক্রবার। শুরুর কয়েক দিন ক্রেতা কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গতকাল ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে গোটা এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
এদিন সকাল থেকেই দর্শনার্থী আসতে থাকেন। দুপুরের পর থেকে মেলা প্রাঙ্গণে তাদের ঢল নামে। বিকালে দর্শক সমাগমে পরিপূর্ণ হয় মেলা প্রাঙ্গণ। প্রতিবারের মতো এবারও প্রসাধনী, কাপড় ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতেই ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্রের স্টলগুলোতেও ক্রেতা সমাগম দেখা গেছে। জেলখানায় কয়েদিদের তৈরি কারা পণ্যের স্টলেও বেচাকেনা হচ্ছিল বেশ। খাবারের স্টলগুলোতেও লোকসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থী ও ক্রেতার পদচারণে মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। প্রতিবারের মতো এবারের মেলায় শিশুদের বিনোদনের অংশ হিসেবে রয়েছে প্যাডেল বোট, স্লিপার, হেলিকপ্টার, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইড। রয়েছে বিরিয়ানি, মিঠাই, ঝটপট, টেস্টি ট্রিট, ব্যাকেটসহ বিভিন্ন আইসক্রিমের স্টল। খাবারের মধ্যে এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ তুর্কি রেস্টুরেন্ট। নতুন স্বাদ পেতে নতুন এই লেভেলে ভিড় করছেন ভোজনপ্রেমী দর্শনার্থীরা। বাইসাইকেল, স্যুট, সাফারি, থ্রি-পিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালির নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, মোটরসাইকেল, স্কুটি, নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন প্যাভিলিয়ন ও স্টলে সাজানো নানা ধরনের পণ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, গৃহসজ্জা, কসমেটিক্স কিংবা পোশাক কিনতে বাণিজ্য মেলায় ছুটে আসেন অনেকে। সোনারগাঁয়ের খিদিরপুর থেকে আসা গৃহবধূ সাফা বেগম বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় এসেছিলাম। মেলায় ভিড় অনেক। দেখি কিছু কেনাকাটা করতে পারি কি না।’ গাজীপুর থেকে আসা অপর গৃহবধূ সামান্তা বেগম বলেন, ‘মেলায় ভিড় হলেও সুন্দর পরিবেশ ও পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না।’ মিরপুর এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী সুইটি আক্তার বলেন, ‘ছুটির দিনে সময় পাওয়ায় বাণিজ্য মেলায় এসেছি। ছেলে-মেয়ে ও স্বামীসহ পরিবারের জন্য টুকটাক কেনাকাটা করেছি। মেলায় অনেক রকমের পণ্য উঠেছে।’ মেলার কিছু কিছু স্টলে বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছে। ঢাকাই জামদানি হাউজের কর্ণধার মো. নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে আমরা ২০% ছাড়ে শাড়ি কেনার সুযোগ দিচ্ছি। প্রথম ধাপে ওঠানো ৫ হাজার শাড়ির মধ্যে ২ হাজার শাড়ি বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি উৎপন্ন হয় এই রূপগঞ্জে। আর তাই ক্রেতারা রূপগঞ্জের বাণিজ্য মেলায় এসে রূপগঞ্জের জামদানি শাড়ি কিনতে ক্রেতারা উৎফুল্লবোধ করছেন।’ ক্ল্যাসিকেল হোম টেক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. জুবায়ের আলম জানান, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় ক্রেতা সমাগম বেশ ভালো, বেচাকেনাও তাদের ভালো হচ্ছে। এবারের মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে স্থান পেয়েছে ৩২৪টি স্টল। রয়েছে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ। ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর মেলার প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বড়দের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। তবে কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহত ব্যক্তিরা। বাণিজ্য মেলার টিকিট ইজারাদারি প্রতিষ্ঠান ডিজি ইনফোটেক-এর ডিজিএম মো. মুনকাদির জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় ৮৫ হাজার দর্শক প্রবেশ করেছেন।