বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সাঁতারু সাইফুল ইসলাম রাসেল। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকত থেকে দুই নারী ৩৫ সাঁতারুর এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল।
একই সঙ্গে ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট সাঁতার কেটে বাংলা চ্যানেলটি পাড়ি দিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন মো. ফয়সাল আহমেদ ও মো. তৈফিকুজ্জামান। ৫ ঘণ্টা ৫ মিনিটে পৌঁছে তৃতীয় হয়েছেন হাফিজুর রহমান। সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘১৯তম ঢাকা ব্যাংক বাংলা চ্যানেল সাঁতার ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৩৭ জন সাঁতারু নাম লিখিয়েছিলেন। তবে তাঁদের দুজন অংশ নেননি। ৩৫ জনের মধ্যে দুই নারীসহ ২০ জন সাঁতার কাটেন সফলভাবে, অপর ১৫ জন স্রোতের কারণে সাঁতার কেটে গন্তব্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হন।
প্রতিযোগিতা শুরুর আগে সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এবারও তিনি প্রথম হওয়ার চেষ্টা করবেন। সাঁতারে অংশ নেওয়া দুই নারীরা হলেন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আক্তার ও এর আগে বাংলা চ্যানেল সফলভাবে পাড়ি দেওয়া প্রথম নারী সোহাগী আক্তার। দুজন সফলভাবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম সাইফুল ইসলাম রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সদস্য। তিনি এর আগে ছয়বার সফলভাবে বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে বাংলা চ্যানেল অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে তিনি একসঙ্গে ডাবল বাংলা চ্যানেল (দুবার পারাপার) সম্পন্ন করেছিলেন। সপ্তমবারের মতো বাংলা চ্যানেল জয়ের লক্ষ্যে অংশ নিয়ে সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছি। আজ সাগর কিছুটা প্রতিকূল হলেও আবারও প্রথম হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ এ ছাড়া এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন বাংলা চ্যানেল সফলভাবে পাড়ি দেওয়া দেশের প্রথম নারী সাঁতারু এমএসটি সোহাগী আক্তার, যা নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ প্রতিযোগিতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ খ্যাত ২০ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া সাঁতারু এবং ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার জানান, এ বছর দুজন নারীসহ ৩৫ জন সাঁতারু প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন অনুসরণ করে এ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। প্রত্যেক সাঁতারুর জন্য আলাদা বোট, অভিজ্ঞ উদ্ধারকর্মী ও মেডিকেল সাপোর্ট রাখা হয়েছে। বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে আমরা আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।’ এবারের আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। পাওয়ার্ড বাই পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত আছে ডাইনামিক ডেন্টিস্ট্রি। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে ভিসাথিং, স্টুডিও ঢাকা এবং সরকার এগ্রো। উল্লেখ্য, উত্তাল সাগর, শক্তিশালী স্রোত ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে বাংলা চ্যানেল সাঁতার বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ওপেন ওয়াটার সুইমিং রুট হিসেবে পরিচিত। এ প্রতিযোগিতা দেশের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।