ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ‘বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপাল করপোরেশন’সহ (বিএমসি) ২৯টি পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরিয়েছে। এ নির্বাচনে নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে আঞ্চলিক এবং সংখ্যালঘুকেন্দ্রিক দলগুলো। গত শুক্রবার এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল অনুযায়ী, বিএমসিসহ বেশিরভাগ পৌরসভায়ই জয় পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহায্যুতি জোট। কিন্তু ‘অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তিহাদুল মুসলিমিন’ (এআইএমআইএম), ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার লার্জেস্ট এসেম্বলি অব মহারাষ্ট্র’ (ইসলাম)-এর মতো সংখ্যালঘু দলগুলোও দারুণ ফল করেছে। প্রথমবার নির্বাচনি ময়দানে নেমেই মালেগাঁও পুরসভা দীর্ঘদিন ধরে থাকা কংগ্রেসের আধিপত্যে থাবা বসিয়েছে মুসলিম দলগুলো। মালেগাঁও পৌরসভায় রয়েছে ৮৪ আসন, বোর্ড গঠনের জন্য প্রয়োজন ৪৩ আসন। সাবেক এনসিপি বিধায়ক আসিফ শেখের দল ইসলাম পার্টি এ পৌরসভায় একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পেলেও ৮৪ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে (ওয়ার্ড) জয় পেয়েছে। এ নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে লড়েছিল ইসলাম পার্টি। সমাজবাদী পার্টির ঝুলিতে গেছে পাঁচটি আসন। এ পৌরসভায় ২১টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এধাইএমআইএম, যা গত পৌরসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের থেকে সাতটি আসন বেশি। অন্যদিকে মাত্র তিনটি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। মুসলিম অধ্যুষিত এ পৌরসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা মাত্র দুটি।
তবে মহারাষ্ট্রের সম্প্রতিক পৌর নির্বাচনে সামগ্রিকভাবে বিজেপির উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যেও ভালো সাড়া ফেলেছে এআইএমআইএম। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ওয়ার্ডগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল করেছে আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল। দলের নেতা শেরেকী নক্সবন্দীর অভিমত, রাজ্যজুড়ে মোট ১২৫টি আসন জিতেছে তাদের দল। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই প্রথমবারের জন্য দেশের সবচেয়ে ‘ধনী পুরসভা’ বৃহন্মুম্বাই পুরসভার জয় পেয়েছে তারা। যেটা তাদের কাছে মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহন্মুম্বাই পুরসভার অন্তর্গত শিবাজী নগর, গোভান্ডি, মানখুর্দ এবং অনুশক্তি নগরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর আটটি ওয়ার্ড-১৩৪, ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮, ১৩৯, ১৪০, ১৪৩ এবং ১৪৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয় পেয়েছে এআইএমআইএম। দলের এ ফলাফল নিয়ে এআইএমআইএম মহারাষ্ট্র রাজ্য সভাপতি এবং সাবেক সাংসদ সৈয়দ ইমতিয়াজ জলিল জানিয়েছেন, ‘আমাদের দল সম্পর্কে যে একটা ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে এটি মুসলিমদের দল, সেই ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এআইএমআইএমের টিকিটে হিন্দু, তফসিলি, উপজাতি, আদিবাসী প্রার্থীরাও জয় পেয়েছেন।’