মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে “ফুল গিয়ারে” ছুটছে প্রশাসন। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে কাজ করছে প্রশাসন। এরপর কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দৃশ্যমান হলে, দায়িত্বে ব্যতয় হলে, পক্ষপাত করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। আসন্ন নির্বাচন ও প্রশাসনের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। ক্রমেই ভোটের দিন ঘনিয়ে আসছে। ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে যে কাজ, সবই করা হচ্ছে। মাঠে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। প্রশাসন সুষ্ঠু ভোটের জন্য পুরোদমে কাজ করছে। প্রতিটি দিন যাচ্ছে মাঠে ব্যস্ততাও বাড়ছে।’
ভোটের আগে মাঠ প্রশাসনে পরিবর্তন আসবে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন হতেই পারে। যদি পরিবর্তন হয়ও সেটা বড় আকারে হবে না। ইলেকশন কমিশন (ইসি) যদি মনে করে তাহলে সুনির্দিষ্ট করে তারা জানালে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠ প্রশাসনে ঠিকমতো কাজটি হচ্ছে কি না, মন্ত্রিপরিষদ সেটি নিয়মিত দেখভাল করছে।’
মাঠ প্রশাসনে এ মুহূর্তে অনেকেই চাপ অনুভব করছেন, আবার অনেক কর্মকর্তার নামে ইসিতে অভিযোগ আসছে-এসব নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মাঠে কিছু বিষয় সব সময়ই থাকে যেটি কর্মকর্তারা দক্ষতা দিয়ে সামলিয়ে থাকেন। মাঠে কাজ সব সময়ই একটু চাপের মধ্যে হয়। আর নির্বাচনকালীন এমনই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঠে কাজ করা কমকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বড় আকারে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে না। এর পরও অভিযোগ উঠলে আমলযোগ্য বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে ভোটারদের উৎসাহিত করছেন বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ রকম করার সুযোগ নেই। ওই ইউএনও এ রকম করে থাকলে বা যারা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইউএনওকে ‘আপু’ বলার বিষয়ে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া লালমনিরহাটের ইউএনও প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনি একজন অফিসারকে স্যার না ভাই বা আপু না ম্যাডাম বলবেন সেটাও ক্ষেত্রবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দেখলাম একটা অনিয়ম থামাতে উদ্যোগ নেন ইউএনও। মধ্যরাত পর্যন্ত গানবাজনা থামানোর উদ্যোগ। সেখানে নমনীয় হওয়ার সুযোগ নেই। ইউএনও যে ভাষায় বলেছেন তাতে রূঢ়তা নেই। কোথাও কোনো কাজে নিয়ম মানতে না চাইলে নমনীয় হওয়া প্রশাসনের কাজ নয়, শক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক।’