সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ ও ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের পোশাক খাতের প্রধান দুটি সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।
সংগঠন দুটির নেতারা বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিট পোশাক খাতের ২৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। দেশি মিলগুলো উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত সুতা সময়মতো সরবরাহ করতে না পারায় আমদানির পথ রুদ্ধ হলে উৎপাদন শিডিউল তছনছ হয়ে যাবে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটি এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহিম, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সুমাইয়া ইসলাম, কাজী মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ সোহেল, সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং বিজিএমইএর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির। সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘বিশ্ববাজারের মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের এ ক্রান্তিকালে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ করার অর্থ হলো দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে জেনেশুনে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা দেশি স্পিনিং মিলগুলো রক্ষা করার পক্ষে, তবে এ মুহূর্তে বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে সেটি তৈরি পোশাকশিল্পে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষায় সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে জোর অনুরোধ জানান।