ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষিকা মিম আক্তারের স্বামী হুমায়ুন কবীরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তানভীর আহমেদ এ আদেশ দেন। এর আগে ১৫ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে ৩১ বছর বয়সি রোকেয়া রহমান এবং তাঁর ১৪ বছরের মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাসায় থাকেন ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার। লাশ উদ্ধারের পর মিম ও তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক বোনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর রোকেয়া ও ফাতেমা নিখোঁজ হন। তাঁদের খোঁজ না পেয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় জিডি করেন রোকেয়ার স্বামী শাহিন আহমেদ। পরে ৬ জানুয়ারি তিনি মামলা করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর মিম আক্তার ১৬ জানুয়ারি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫) হওয়ায় তাঁর বোনকে পাঠানো হয় গাজীপুরে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে।
মিমের জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার এসআই রনি চৌধুরী বলেছিলেন, এনজিও থেকে মিম ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের জিম্মাদার ছিলেন তাঁর ছাত্রীর মা রোকেয়া রহমান। মিম ঋণের বিপরীতে প্রতি মাসে কিস্তি দিতেন ৫ হাজার টাকা। ঋণের কিস্তি বকেয়া পড়ায় মিমের সঙ্গে রোকেয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়। ফাতেমা ২৫ ডিসেম্বর মিমের কাছে পড়তে গেলে ঋণের টাকার প্রসঙ্গ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা তার শিক্ষিকা মিমকে থাপ্পড় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তখন মিম ও তাঁর বোন গলা টিপে ফাতেমাকে হত্যা করেন। এরপর ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে জানিয়ে মিম ফাতেমার মা রোকেয়াকে বাসায় ডেকে নেন। বাসায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মিমের ছোট বোন ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এরপর ফাতেমার লাশ রাখা হয় বাথরুমের ছাদে। আর রোকেয়ার লাশ লুকিয়ে রাখা হয় খাটের নিচে।
১৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ থেকে মিমের স্বামী হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা রনি চৌধুরী। তবে মামলার মূল নথি না থাকায় রিমান্ড শুনানির জন্য গতকাল দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।