১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ ইস্যুতে গণভোট। এ গণভোটে দেশের মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী নানান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে উপদেষ্টাদের বক্তব্য আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরের ভিত্তিতে তুলে ধরা হলো-
খুলনা : খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচন অন্যান্য বছরের তুলনায় অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশে একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে। প্রচলিত নিয়মকে সংস্কার করতে বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাবের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ গঠন করা হয়। আগামীতে দেশ কীভাবে চলবে তা নির্ভর করছে জনগণের হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার কর্তৃক তা বাস্তবায়নের ওপর। গণভোটে অনাগ্রহী হলে বা ভুল করলে আবারও মাশুল দিতে হবে।’ গতকাল খুলনা মহানগরীর শহীদ হাদিস পার্কে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার মোক্তার হোসেন। সমাবেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারে নিয়োজিত ভোটের গাড়ির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বাগেরহাট : আগামী পাঁচ বছর বা পরবর্তী সময়ে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং জুলাই সনদের সিদ্ধান্ত যথাযথ বাস্তবায়ন করতে জনগণকেই ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গতকাল দুপুরে বাগেরহাটে খানজাহান আলী দরগাহ মাঠে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে সুধী সমাবেশে এ কথা বলেন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আবু আনসার, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মইনুল ইসলাম। সমাবেশের আগে দরগাহ মাঠে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ক্যারাভান ভোটের গাড়ির মাধ্যমে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
বগুড়া : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীরপ্রতীক বলেছেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ-ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার যেন মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারে, বিনা বিচারে হত্যা করতে না পারে সে বিষয়গুলো সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা যাবে। জনগণের মতামতের ঊর্ধ্বে কিছু নেই কারণ রাষ্ট্র জনগণের। রাষ্ট্রের চাবিকাঠি হাতে নেওয়ার যে সুযোগ এসেছে তা যেন আমরা হেলায় হারিয়ে না ফেলি। সবাই মিলে হ্যাঁ-ভোট দিয়ে এ উদ্যোগ সফল করতে হবে। আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ বা না-ভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতেই আমরা মাঠে নেমেছি।’ গতকাল বগুড়া সদরের ফাঁপোড় পশ্চিমপাড়া মাঠে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিবিষয়ক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন, বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াজেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফা মঞ্জুর প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, দেশ এখন আর আগের মতো নেই। আমরা আগের মতো অবস্থায় ফিরতে চাই না। এজন্য আগামী নির্বাচনে হ্যাঁ, না ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, না ভোট কোনো নিরপেক্ষ জায়গা নয়। হ্যাঁ মানে আমি পরিবর্তন চাই, হ্যাঁ মানে আমরা নতুন দেশ চাই। এদেশের আপামর জনগণও তা চায়। এটুকুই বোঝাতে হবে সবাইকে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুধীজন, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।