রংপুরে পুলিশ হেফাজতে এক আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারের ১০ মিনিট পর তাঁর লাশ হাসপাতালে রেখে পুলিশ চলে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী রাত দেড়টার দিকে লাশ নিয়ে নগরের শহীদ মুখতার এলাহী চত্বর থেকে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ধস্তাধস্তি হয়।
নিহত মুকুল মিয়া (৪৫) পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তাঁর বাড়ি রংপুর নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধাপ চিকলী ভাটা এলাকায়। গতকাল বিকালে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়।
মুকুল মিয়ার স্ত্রী লাভলী বেগমের অভিযোগ, তার স্বামীর বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় গাড়িসংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য বাড়ি থেকে মুকুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এর কিছুক্ষণ পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাদের এক প্রতিবেশী জানান, মুকুল মিয়ার লাশ জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে রাতেই স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে যান। রাত ২টার দিকে লাশ রেখে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে। মৃত্যু কীভাবে হয়েছে তা তদন্ত করতে কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে না। এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মানিক মিয়া জানান, লাশের সুরতহাল করার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই গতকাল বিকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।