দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে আবার বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল দুপুর থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাজুস ঘোষণা দিয়েছিল, শুক্রবার থেকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমিয়ে প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা করা হলো। তখন বলা হয়েছিল, এটি আগের রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা থেকে কম। তবে ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দাম বাড়ানো হয়েছে।
বাজুস সূত্র জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের হঠাৎ পরিবর্তন, খাঁটি সোনার আমদানিমূল্য বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের খুচরা সোনার বাজার বেশ অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা, ডলারসংকট, খাঁটি সোনার মূল্য বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ অস্থিরতার প্রধান কারণ।
একাধিক জুয়েলার্স মালিক জানান, দাম কমানোর ঘোষণা বাজারে স্বস্তি দিলেও হঠাৎ সোনার দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে মূল্য সমন্বয় অনিবার্য হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে দেশে সোনার দামে ধারাবাহিকভাবে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো দেশে প্রতি ভরি সোনার দাম ৫০ হাজার টাকা ছাড়ায়। পাঁচ বছর পর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তা ১ লাখ টাকা অতিক্রম করে। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। দাম বৃদ্ধির ফলে সোনার গয়না কেনায় সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে বলেও মত তাঁদের। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম স্থিতিশীল না হলে দেশের বাজারেও এমন ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।