যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে বের হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এক বছর আগে ডব্লিউএইচও থেকে বের হয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে ডব্লিউএইচওর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের সভায় আলোচনা হবে। পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ডব্লিউএইচও তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে বলে মনে করে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের বিশ্বাস, ডব্লিউএইচও সংস্কার, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, কভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর ভূমিকা বিশেষভাবে সমালোচিত হয়েছে। ডব্লিউএইচও কভিড-১৯-কে বৈশ্বিকভাবে স্বাস্থ্যগত জরুরি ঘোষণা করতে দেরি করেছে। সংস্থাটি অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চীন ও অন্য দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওতে বেশি অনুদান দিয়েছে। ডব্লিউএইচওর ইতিহাসে কখনো কোনো মার্কিন নাগরিক সংস্থাটির মহাপরিচালক হননি বলে উল্লেখ করেন এইচএইচএসের ওই কর্মকর্তা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত ২৭ কোটি ডলারের বেশি অনুদান বকেয়া আছে। তবে এইচএইচএসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে ডব্লিউএইচওর সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে এ অর্থ পরিশোধে বাধ্য নয়। হোয়াইট হাউস বলেছে, ডব্লিউএইচও কাঠামোর বাইরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে থাকবে। ৬৩ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ২ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। শতাধিক দেশের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, রোগনির্ণয় এবং প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।-তথ্যসূত্র : এবিসি নিউজ