ভাটির শহর নেত্রকোনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং আরেকটিতে রয়েছে দলীয় কোন্দল। এ দুই চ্যালেঞ্জের মধ্যে হাওড়বেষ্টিত তিন উপজেলা মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়িতে বইছে ধানের শীষের পক্ষে জোর হাওয়া। তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের হাওড়াঞ্চলে কেবল সবুজ ধান খেত আর ভোটার-সমর্থকদের মুখজুড়ে স্লোগান ‘ধানের শীষ’। এলাকাবাসী বলছেন, ভাটির মানুষের কোনো রাজনীতি নেই। তারা বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত বোঝে না। তারা বোঝে বাবর ভাই। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লু ফুজ্জামান বাবরের একক প্রভাবে তার আসনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও অন্তত দুটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় কোন্দলের কারণে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রার্থীরাও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলছেন বলে এলাকাবাসী বলছেন।
নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) : গারো, হাজং ও বাঙালি অধ্যুষিত ভারতীয় সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-১ আসন। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিশের প্রার্থী (সাবেক এমপি জাতীয় পার্টি) গোলাম রব্বানী।
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) : জেলার সব দাপ্তরিক কার্যালয় থাকায় নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-২ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকি সক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় জোটের হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান।
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) : ইতিহাস, ঐতিহ্যসমৃদ্ধ জেলার কেন্দুয়া-আটপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৩ আসনটি। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা। আসনটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সঙ্গে স্বতন্ত্র হিসেব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল।
নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) : নেত্রকোনা জেলার ভাটিবাংলা হিসেবে পরিচিত তিনটি হাওড় উপজেলা নিয়ে এ আসনে আলোচিত প্রার্থী বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লু ফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল হেলাল তালুকদার। এ ছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, ইসলামী আন্দোলনের মো, মুখলেছুর রহমান ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার আসনটিতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) : জেলার একমাত্র একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৫ আসনে বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত জোট প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করছেন। এই আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ভিপি মো. আবু তাহের তালুকদার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। ১১ দলীয় জোট প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা।
তিনি আওয়ামী লীগ শাসনামলে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে তৃণমূল ভোটারদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বেশি বলে জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। পক্ষান্তরে বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে আসনটিতে ১১ দলীয় প্রার্থী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এ ছাড়া আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম নির্বাচন করছেন।