কুষ্টিয়ার দুটি আসন নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন ঘিরে তোলপাড় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। কুষ্টিয়া-১ ও ৩ আসন নিয়ে করা ওই প্রতিবেদন এখন মানুষের মুখে মুখে। জেলার চারটি আসনের মধ্যে ওই দুটি আসন জামায়াতে ইসলামী পাবে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত। অতীতের কোনো নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। এই গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের পর নতুন করে হিসাবনিকাশ করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। আবার অনেকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনকে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিএনপিপন্থিদের দাবি, দুটি আসনই বিএনপির ঘাঁটি এবং ত্রয়োদশ নির্বাচনেও তাঁরা এখান থেকে জয়ী হবেন। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আসন দুটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজা এক জনসভায় বলেছেন, ‘এখানে এবারের নির্বাচন হবে অস্ট্রেলিয়া বনাম উগান্ডা ক্রিকেট ম্যাচের মতো।’ তাঁর এই বার্তা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন তারা। একই চিত্র কুষ্টিয়া-১ আসনেও। এখানকার বিএনপি নেতারা জানান, এ আসনটি বিএনপির দুর্গ বা ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত। এখানে জামায়াতের প্রভাব বা বলয় তেমন নেই। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কেন এমনটি হলো এটা তাদের জানা নেই। স্থানীয় গোয়েন্দারাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। মূলত কুষ্টিয়া-১ আসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় বিএনপি, প্রতিপক্ষ এবার জামায়াত। নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা বেলাল উদ্দিন। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়লাভের ইতিহাস রয়েছে। এ আসনের নির্বাচনি ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের রায় ও রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে, যা আসনটিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ১ হাজার তিনজন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন। আলোচিত আসন কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জাকির সরকার। জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা। তাঁর অবস্থানও মোটামুটি শক্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অপর প্রার্থী অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বিএনপির পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ায় এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। আসনটিতে আহাম্মদ আলী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হলেও তাঁর প্রচার-প্রচারণা খুব বেশি নজরে আসেনি। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন কতটা সত্য হবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।