জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাদের মনোনয়ন দিয়ে আবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু নয়। এ সময় ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির দাবি করাকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গতকাল রাজধানীর ঢাকা-১১ আসনের ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের জোট প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা যারা ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের জাঁতাকলে পিষ্ট ছিলাম, এর মধ্যে একটা অংশ মজলুম থেকে জালেম হয়ে উঠেছে। যেসব অপকর্ম আওয়ামী লীগ করত, তারাও ৬ তারিখ সকাল থেকে সেসব অপকর্ম শুরু করেছে। আজ পর্যন্ত তারা আর বন্ধ করেনি। আমরা তো এজন্য লড়াই করিনি, রক্ত দিইনি। আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’ এ সময় শাপলা কলিতে ভোট চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে নাহিদ ইসলামরা বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবে থাকবে। আমরা থাকব প্যাসেঞ্জার হিসেবে। ১১-দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এই সরকারে নাহিদ ইসলামকে আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখবেন।’ তিনি বলেন, ‘এই জাতির ভাগ্য বদলের জন্য পাঁচটি বছর যথেষ্ট। আমরা কোনো ভুল আশ্বাস দেব না। যা বলব তা জানপ্রাণ দিয়ে পালন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘১২ তারিখ বারবার ফিরে আসবে না। ৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ হবে ১২ তারিখ। যে আকাক্সক্ষা নিয়ে রক্ত দিয়েছিল আমার ভাইবোনেরা, ওই রক্তের ঋণ পরিশোধ করার দিন হলো ১২ তারিখ। এই রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। তরুণরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়ে দিয়েছে। জনগণ সেদিন দুর্নীতি-চাঁদাবাজ-ঋণখেলাপিদের লাল কার্ড দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে যারা পাহারাদার ছিলেন ১২ তারিখও আপনারা পাহারাদার হবেন। আমাদের কাছে আপনাদের একটা ভোট গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের কাছে একটা আসনও গুরুত্বপূর্ণ।’
১২ ফেব্রুয়ারিও সফল হব-নাহিদ ইসলাম : সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্ট যেভাবে আমরা সফল হয়েছি, ১২ ফেব্রুয়ারিতেও ঠিক সেভাবেই সফল হয়ে ১১-দলীয় বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরব।’ এ সময় তিনি ভোটের দিন মা-বোনসহ সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা ও ভাটারা এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষই এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, যা বছরের পর বছর মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে চলেছে। সরকারি হাসপাতাল না থাকায় সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি প্রাইভেট হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একইভাবে পর্যাপ্ত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষাব্যবস্থাও বেসরকারি খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে। শিক্ষিত বেকারের হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ হলেও কর্মসংস্থানের কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেই।
ঢাকা-১১ আসনের মূল সমস্যাকে রাজনৈতিক উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় সংকট হলো ভূমিদস্যুতা। শত শত মানুষের জমি, খাসজমি ও সাধারণ জলাশয় দখল করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এ সময় এই অঞ্চলের যেসব মানুষ ভূমি হারিয়েছে, তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ ইসলাম।