পটুয়াখালীর বাউফল এবং ঝালকাঠির নলছিটিতে নির্বাচনি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বাউফলে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ ঘটেছে এবং নলছিটিতে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান নিয়ে হাঙ্গামা ঘটে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান এলাকার ভান্ডারিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের নারীসহ কমপেক্ষ ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াতের নারীকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযোগ ওঠে, তারা ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি করছেন। খবর পেয়ে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের প্রচারে বাধা দেয়। তখন মিছিল নিয়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনার পর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ ছাড়া হামলার প্রতিবাদে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল সড়কে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি জনতা ভবনের সামনে গিয়ে ফিরে হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে তারা মো. শামিম নামে এক বিএনপি সমর্থককে মারধর করে। একপর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা এগিয়ে এলে আবার দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং এতে ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। পরে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমানকে বদলির দাবিতে থানার সামনে বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করে রাখে। দুই সংঘর্ষ গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. জুয়েল (৩৩), মো. নয়ন (১৭), মোসা. লিমা জাহান (২৫), মো. শাহজালাল (২০), মো. সুজন (২৬), মো. শহিদুল বেপারী (২৭), মো. হাফেজ আনিসুর রহমান (৫৫), মো. আমিনুল মাততুব্বর (৩৫), মো. নুরু মাতুব্বর (৩৫), মো. সাইফুল শরিফ (৩৫), মো. আলআমিন চৌকিদার (২৫) ও মো. সোহাগ (২৭)। মোট ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া মো. জামাল মৃধা নামে এক জামায়াত কর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝালকাঠি : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে উপজেলার তালতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর পক্ষে নির্বাচনি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক চলছিল। এতে প্রায় কয়েক শ নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক চলাকালে সুবিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য দোলন মুন্সির নেতৃত্বে ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ সমর্থক বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করে। তবে দোলন মুন্সির বিরুদ্ধে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ থাকায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজল তালুকদারসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশ এতে আপত্তি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান খান হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সদস্যসচিব মো. সাইদুল কবির রানাসহ একাদিক নেতাকে ভিতরে রেখে দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইউনিয়ন বিএনপির সংক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। এ সময় ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা দোলন মুন্সির মেজো ভাই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন মুন্সী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম অপুর নেতৃত্বে স্থানীয় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নিয়ে সংক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে কার্যালয় খুলে উপজেলার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদ খান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুমন মুন্সী ও যুবলীগ নেতা দোলন মুন্সির পরিবারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলে নেতা-কর্মীরা শান্ত হন।