পাবনা-৫ (সদর) আসনের হেমায়েতপুরে নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা রমজান আলীকে (৬৫) কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর শিবরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রমজান আলী হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং স্থানীয় চর শিবরামপুর ভোট কেন্দ্রের পরিচালক। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা রমজান আলীকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। শনিবার রাতে স্থানীয় একটি মসজিদে অবস্থানকালে বিএনপি নেতা রায়হানের নেতৃত্বে একদল লোক তাকে মসজিদ থেকে বের করে আনে। এরপর তাকে দেশি অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনার পরপরই পাবনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইন্দিরা মোড়ে প্রতিবাদ সভা করা হয়। এ সময় জামায়াত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। জামায়াত প্রার্থী ইকবাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশে আমাদের নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে। দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিএনপি প্রার্থীর ভাই ও ভাতিজাদের নাম উচ্চারণ করে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান ইকবাল হোসাইন। তবে এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বা তার নির্বাচনি দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।