অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে ভেস্তে গেছে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গতকাল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কম থাকায় শেষ সময়ে এসে এ প্রকল্পের আর চুক্তি সই হয়নি। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এনার্জি ও পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান-২০২৬ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, গত বছর রমজান এবং গ্রীষ্মে বলা হয়েছে প্রচণ্ড লোডশেডিং হবে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক
রাখতে। সেটা করতেও পেরেছি। এ বছরও আশা করছি গ্রীষ্ম, রমজান, সেচে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এবার লোডশেডিং হবে না এমন না। তবে গত বছরের মতো এবারও প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা এমন কিছু করব না যাতে পরবর্তী সরকারে জন্য খুব খারাপ কিছু হয়। আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদানির বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে সরকার তার নিজের ইচ্ছার বাস্তবায়ন করছে এমন কিছু আমরা দেখাতে চাইনি। সেজন্য আমরা একটি পর্যালোচনা কমিটি করেছি। আন্তর্জাতিক চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। আসছে নির্বাচিত সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে অনেক কোম্পানি এলপিজি আমদানির লাইসেন্স গ্রহণ করলেও দেখা গেছে অধিকাংশ কোম্পানি এলপিজি আমদানি করে নাই। এলপিজির দাম, নিয়ন্ত্রণ সবাই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) করে। তবে এলপিজির সোর্স কান্ট্রি এমনকি বিভিন্ন জাহাজের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এলপিজির সংকট হয়েছে। আশা করছি এলপিজি সংকট কমে আসবে।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দুই বছরে বিদ্যুৎ জ্বালানির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়নি। এই খাতে বিনিয়োগ দরকার ছিল যেটা আমরা পাইনি সরকারের স্বল্প মেয়াদের কারণে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর বকেয়া আগে পরিশোধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক বিদেশি কোম্পানি বকেয়া না দিলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এসব কারণে তাদের বকেয়া আগে দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।