ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের নির্বাচনি প্রচার শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রার্থী নেতা-কর্মী ও তাদের সমর্থকরা নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে প্রচারের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। দু-একটি স্থানে হালকা উত্তেজনা থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে কারচুপির শঙ্কা করছেন।
এদিকে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত রংপুর থেকে লাঙল মার্কার মাটি ধীরে ধীরে সরে যেতে বসেছে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩০টি আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছে। জাতীয় পার্টি ১৫ থেকে ১৬টি আসনে জয় লাভের আশা করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। তারা তিন থেকে চারটি আসনে জিততে পারে। মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে এমনটাই জানা গেছে। নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিন ধরে নিয়ে মাঠ গরম রেখেছেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল। সোমবার বেলা ২টার পরপরই জামায়াতে ইসলামী নগরীতে বিরাট নির্বাচনি মিছিল বের করে। বিএনপিও নির্বাচনি মিছিল ও সমাবেশ করেছে। রংপুর সদরে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে মিছিল সমাবেশ করতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। নির্বাচনি পর্যবেক্ষকদের মতে ভোটারের একটি অংশের মাঝে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। যে সব প্রার্থী এই ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে পারবেন তার পক্ষে ভোট বাড়বে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি। এদিকে রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জাতীয় পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
এ ছাড়া রংপুর বিভাগের অন্য সাত জেলায় জাতীয় পার্টির ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর সদর আসনসহ আরও ২ থেকে ৩টি আসনে জাতীয় পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। এ ছাড়া লাঙলের প্রার্থীরা খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
জাতীয় পার্টির প্রেসেডিয়াম সদস্য ইয়াসির আহমেদ বলেন, রংপুর বিভাগে জাতীয় পার্টি ১৫ থেকে ১৬টি আসন পাবে। তবে জামায়াতে ইসলামী ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করেছে। এতে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি দুই দলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।