সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় ১২৪ বারেও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ জানাতে বলা হয়েছে। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দেননি। পরে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ১ এপ্রিল নির্ধারণ করেন আদালত। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক এসআই। হত্যার চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাই কোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট।
ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাই কোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। এই মামলার আসামিরা হলেন, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের বন্ধু তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর জামিনে রয়েছে। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছেন। অপর আসামিরা কারাগারে।