ধানি তুলিকা চড়ুই বা বাবুইয়ের মতো ছোট আকারের আবাসিক পাখি। আগে সহজে চোখে পড়লেও এখন তেমন দেখা যায় না। সারা বছর প্রজনন সক্ষম হলেও শুকনো মৌসুমে এদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। প্রজনন সময়ে মেয়ে পাখির দৃষ্টি আকর্ষণে পুরুষ ধানি তুলিকা মাটি থেকে কয়েক ফুট ওপরে উঠে ঘনঘন ডাকতে থাকে। সম্প্রতি রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরে পাখিটির ছবি তুলেছেন রংপুরের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার, কবি ও লেখক রানা মাসুদ। তুলিকা ও খঞ্জন গোত্রের এই ছোট প্যাসারিফর্মিস পাখি খোলা তৃণভূমি ও চাষাবাদ এলাকায় বিচরণ করে। দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার। ওপরের অংশ ধূসর-বাদামি, বুকে হালকা ডোরাকাটা দাগ। লম্বা পা, লেজ ও কালচে ঠোঁট এদের বৈশিষ্ট্য। পুরুষ-স্ত্রী দেখতে প্রায় একই রকম। ঘাসঝোপের আড়ালে মাটিতে কাপ আকৃতির বাসা বানায়। সাধারণত তিন থেকে চারটি সবুজাভ ডিমে তা দেয়। ছোট পোকামাকড় এদের প্রধান খাদ্য।
ফটোগ্রাফার রানা মাসুদ জানান, পদ্মার চরে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি ছবিটি তুলতে সক্ষম হন। ঘাসের আড়ালে থাকায় পাখিটিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। তাঁর ভাষায়, ‘পুচ্চুটার ভাব দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন নিজের সৌন্দর্যই দেখাতে চাইছে।