নির্বাচনি আমেজে রাজধানী ঢাকা ঈদের মতোই ফাঁকা হয়ে গেছে। এতে বেশির ভাগ সড়কে চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য থাকলেও গণপরিবহন না পেয়ে অনেকেই বিড়ম্বনার কথা জানিয়েছেন। আবার দূরপাল্লার যানবাহনে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সরকারি নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেছে শিল্পকারখানা। আজ ও আগামীকাল সাধারণ ছুটি, সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। লম্বা এই ছুটিতে অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় গতকাল সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ লক্ষ করা গেছে রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে।
গত পরশু থেকেই দেখা যায় রাজধানীর নর্দা, সায়েদাবাদ, মহাখালীতে বাড়িমুখী মানুষ। মহাখালীর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় রাফিয়া আহমেদের সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভোট দিতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। বন্ধ পেয়ে এখানে এসে দেখলাম অনেক মানুষ। যেন ঈদের মতো আমেজ। সাধারণত ঈদের সময় রাজধানীর এমন ফাঁকা চেহারা দেখা গেলেও এবারের কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
কাকরাইল, বিজয়নগর, মৎস্য ভবন, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও, লালবাগ ও চকবাজার এলাকাগুলো মানুষের চলাচলে সবসময় মুখর থাকলেও এক ধরনের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে এসব এলাকায়। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অনেক মানুষ রাজধানী ছাড়ায় চিরচেনা যানজটের দেখা মেলেনি বিভিন্ন রাস্তায়। যানবাহনের চাপ না থাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি। চালক আবুল হোসেন বলেন, ভোটের আগে রাজধানীর মানুষ চলে যাচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে তাই আরাম। গতকাল থেকে গণপরিবহন একেবারে নেই বললেই চলে রাজধানীর সড়কগুলোতে। এতে বিপাকে পড়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন ও নিজ এলাকায় ভোট দিতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দিনভর ঘরমুখী মানুষের বাড়তি চাপ ছিল। তবে অনেকেই জানাচ্ছেন নানা বিড়ম্বনার কথা। ছিল বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও। ব্যাংকার ছোটন রয় নামের একজন বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈশ্বরদী গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। বাস ভাড়া সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি রাখছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসচালকেরা। এদিকে ফাঁকা ঢাকায় সহজ চলাচলে খুশি পথচারী ও অফিসগামীরা। পেশায় চিকিৎসক আদিল আমান বলেন, আমাদের তো ছুটি নেই। চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতেই হয়। এবার নির্বাচন উপলক্ষে রাস্তা এখন ফাঁকা। এটা উপভোগ করছি।