ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে বিভিন্ন স্থানের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক সংঘর্ষের ঘটনা। নির্বাচনের দিন অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, দাগি সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা ক্ষমতার পালাবদল কিংবা প্রেক্ষাপট পরিবর্তনেও দমানো যায়নি বিভিন্ন অলিগলিতে তৎপর হয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের। আর নির্বাচন সামনে রেখে এসব সদস্য আশ্রয় নিয়েছে প্রার্থীদের ছায়াতলে। নিয়মিত অংশ নিচ্ছে মিছিল মিটিংয়ে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের নামও এসেছে। দেশি অস্ত্রসহ গ্যাংয়ের সদস্যদের কাছে রয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও। যারা ভোট কেন্দ্রে নাশকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা ভোটারদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করে ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তাদের মধ্যে কিশোর অপরাধীরা অন্যতম। কেননা কিশোরদের সামনে রেখে ফায়দা হাসিল করা খুবই সহজ কাজ। পরবর্তী আইনি ঝামেলাও মোকাবিলা করা সহজ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও বিশৃঙ্খলা করলে ছাড় না দেওয়ার মানসিকতায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।
ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর ৮টি বিভাগে কমপক্ষে ১১৮টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২টি কিশোর গ্যাং রয়েছে মিরপুরে। এখানকার পল্লবী থানায় ১৪টি, দারুসসালামে ৬টি, শাহআলীতে ৪টি এবং মিরপুর মডেল, কাফরুল, ভাষানটেক ও রূপনগরে দুটি করে কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর পরেই ২৬ কিশোর গ্যাং রয়েছে তেজগাঁও বিভাগে। এখানকার মোহাম্মদপুর থানাতেই রয়েছে ১৬টি গ্যাং। অন্য এলাকাগুলোর মধ্যে রমনায় ৬টি, ওয়ারীতে ১৩টি, মতিঝিলে ১০টি, গুলশানে ১১টি ও উত্তরায় ১০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে আড়াই শতাধিক গ্যাং নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তালিকাভুক্ত এসব কিশোর গ্যাংয়ের বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে আরও শতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের হাজারো সদস্য তৎপর রয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং হুমকি বা আতঙ্ক হবে এমন কোনো আশঙ্কা আমরা করছি না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট উপহার দিতে যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি প্রচারে কিশোর ও যুবকরা সব এক হয়ে গেছে। ফলে কিশোর গ্যাং নিয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা আমরা দিইনি। সহিংসতার উদ্দেশ্যে কেউ যাতে জট পাকাতে না পারে- সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্যাট্রল টিমগুলো সতর্ক অবস্থানে থাকলে এবং সহিংসতার আগেই অপচেষ্টাকারীদের রুখে দিতে পারলে কোনো সমস্যা হবে না। এর পরও কোনো ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।