চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই বিচার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার আসামি আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গতকাল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘ ১৬ বছরের পরিকল্পিত দমনপীড়ন, স্বৈরতন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ, একটি ঐতিহাসিক গণজাগরণ। এই মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং যে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হবে, তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করবে যে, এই হত্যাযজ্ঞ ছিল পূর্বপরিকল্পিত, পদ্ধতিগত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং ব্যাপক মাত্রায় সংঘটিত। তিনি বলেন, ১৯ জুলাই রাতে আনিসুল ও সালমান আন্দোলন দমনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেনা মোতায়েন ও দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয়, যা হত্যাযজ্ঞকে আরও ত্বরান্বিত করে। এরপর ২০ জুলাই, ২৮ জুলাই, ৪ আগস্ট এবং ৫ আগস্ট, পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসেও এই রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ থামেনি। এই হত্যাযজ্ঞের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর মিরপুরে সিফাত হাওলাদার, আখতারুজ্জামান, শাহরিয়ার আলভীসহ একের পর এক তরুণ প্রাণ ঝরে পড়ে। শুধু ২০ জুলাই এক দিনেই কমপক্ষে ২০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।