দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপির তিন প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে আপাতত সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে না। আরেকজন আইনি মোকাবিলায় জয়ী হয়েছেন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনজনের প্রার্থিতাই বহাল থাকছে। এ তিনজন হলেন-ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম, কুমিল্লা-৩ আসনে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম।
নির্বাচনি হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টে রিট করেন এনপিসির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। পরদিন প্রাথমিক শুনানির পর রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন হাই কোর্ট। পরে তিনি হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) আবেদন করেন। লিভ টু আপিলটি গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির জন্য ছিল। নাহিদের আইনজীবীর সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত শুনানি ‘নট টুডে (আজ নয়)’ বলে আদেশ দেন। ফলে নির্বাচনের পর লিভ টু আপিলটিতে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন কাইয়ুমের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগ ছিল কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিরুদ্ধেও। অভিযোগ তুলেছিলেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনি আপিলে কায়কোবাদের মনোনয়ন বৈধতা পেলে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে হাই কোর্টে রিট করেছিলেন ইউসুফ সোহেল। গত ২৭ জানুয়ারি হাই কোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এরপর তিনি এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদন করেন। গতকাল আপিল বিভাগ লিভ টু আপিলও খারিজ করে দেন। ফলে কায়কোবাদের প্রার্থিতা যথারীতি বহাল থাকে। আদালতে ইউসুফের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। কায়কোবাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও মো. রুহুল কুদ্দুস। এদিকে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি পিছিয়েছে। ফলে তার প্রার্থিতাও বহাল থাকছে। ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট করেছিলেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. সাহাবুদ্দিন। গত ২৮ জানুয়ারি হাই কোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এরপর এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। সাহাবুদ্দিনের আইনজীবীর সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ গতকাল শুনানি নট টুডে (আজ নয়) রাখেন। আদালতে সাহাবুদ্দিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও আইনজীবী এম কে শাহনেওয়াজ। কাজী রফিকুলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও মো. রুহুল কুদ্দুস। আহসানুল করিম বলেন, আবেদনকারীর আইনজীবীর সময় চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি নট টুডে রেখেছেন। নির্বাচনের পরে লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হতে পারে।