দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করল ইতিহাসের এক আবেগঘন অধ্যায়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা দুই নম্বর ব্লকের রেজিনগর থানার মরাদিঘী এলাকায় শুরু হয়ে গেল বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ। গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে মাটি খোঁড়ার মধ্য দিয়ে এ ঐতিহাসিক কাজের সূচনা হয়।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে কোরআন তিলাওয়াত। কয়েক শতাধিক হাফেজ কোরআন তিলাওয়াত করেন। দুপুর ১টার দিকে তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর মসজিদ নির্মাণের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। হুমায়ুন কবীর বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। এ কাজে যতই বাধা আসুক না কেন, অতিক্রম করব ইনশাল্লাহ। আল্লাহ আমার পাশে আছেন। আল্লাহকে খুশি করার জন্য বাবরি মসজিদ হচ্ছে এবং হবে। পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতের কোনো শক্তি নেই এ মসজিদকে রুখবে। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই সেখানে এসে পৌঁছেছে ইট, সিমেন্ট, বালু, রডসহ ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এমনকি গতকালও বহু মানুষকে মাথায় করে ইট বয়ে আনতে দেখা যায়। প্রায় ৩০০ ফুট চওড়া এবং ১৯ ফুট উঁচু এই মসজিদ নির্মাণ করতে সময় লাগবে দুই বছর। ৫০ থেকে ৫৫ কোটি রুপি ব্যয়ে তৈরি হতে চলছে এই মসজিদ। মসজিদের মূল ফটকের উচ্চতা হবে ১৪ মিটার, চওড়ায় ৫ মিটার। বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের কাজ শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে তৈরি হয় আবেগ। বহু মানুষের চোখে-মুখে দেখা যায় প্রাপ্তির আনন্দ। বাবরি মসজিদ নির্মাণকে সামনে রেখে আজ বাবরি যাত্রার সূচনা হবে। সকাল ৯টা নাগাদ নদীয়া জেলার পলাশী মনুমেন্ট থেকে বাবরি যাত্রা শুরু হবে। ২৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আগামীকাল রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারে গিয়ে তা শেষ হবে।