ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করে ভোটারের। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে নিজের মতামত জানাতে এসেছিলেন নাগরিকরা।
বয়সের ভারে হাঁটতে পারেন না ৮০ বছরের আছিয়া বেগম। চোখেও দেখেন না। ছেলে মনির হোসেনের সঙ্গে থাকেন টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে। তবু মেয়ে রাশিদা বেগমের কাঁধে ভর করে বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্রে এসেছিলেন ভোট দিতে। আছিয়া বেগম বলেন, ‘সন্তানদের বলেছি ভোট দিব। ওরা নিয়ে এসেছে।’ ৫৯ বছরের ফাতেমা বেগম হুইলচেয়ারে বসে ভোট দিতে এসেছিলেন ১ নম্বর আজিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বয়স্ক মানুষের পাশাপাশি কেন্দ্রে নবীনের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী এম আই মডেল হাই স্কুল কেন্দ্র ছিল কানায় কানায় ভর্তি। বিপুল পরিমাণ নারী ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেছে। এ আসনের আরেক কেন্দ্র শহীদস্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ে অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে দেখা যায়। কামরাঙ্গীর চরের আশরাফাবাদ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ছিল ভোটারের উপচে পড়া ভিড়। সতর্ক অবস্থানে দেখা যায় সেনাবাহিনীকে। ঢাকা-১২ আসনে দুপুরে ফাঁকা হয়ে যায় ভোট কেন্দ্র। তেজগাঁও শিল্প এলাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি কেন্দ্রের সব বুথে পোলিং এজেন্টদের বসে থাকতে দেখা যায়। সকালের দিকে কিছু ভোটার এলেও দুপুরে ফাঁকা হয়ে যায়।
ঢাকা-১৬ আসনের মিরপুর গার্লস ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রে এক জেন-জি ভোটার রাফসান বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা জুলাই আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন বা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের নতুন সরকার এসে সাহায্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।’ রাজধানীর জিগাতলা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ছিল দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। ঢাকা-১৭ আসনের টিঅ্যান্ডটি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় ভোটারের লাইন ছাড়িয়েছে বিদ্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত। স্কুল ভবনের চার তলা পর্যন্ত লাইনে থাকা ২ শতাধিক ভোটারের মধ্যে হাতেগোনা ১০-১৫ জন দেখা যায় চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের। অধিকাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তাদের অর্ধেকের বেশি জীবনে প্রথম ভোট দিতে এসেছেন। এ কেন্দ্রের ভোটারের বড় অংশ কড়াইল বস্তির বাসিন্দা। লাইনে ভোটের স্লিপ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মহিউদ্দিন জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশাল, থাকেন কড়াইল বস্তিতে। ২০১৭ সালে ভোটার হলেও এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছেন। এদিকে বুঝতে না পেরে গণভোটের ব্যালট ফাঁকা রেখে জমা দিয়েছেন কড়াইল বস্তির অনেক ভোটার। বাড্ডা আনন্দনগর আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে ভোটারের দীর্ঘ লাইন ছিল। এখানে একসঙ্গে ছয়টি কেন্দ্র। ভোটার প্রায় ১৩ হাজার। এক ঘণ্টার বেশি লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় ভোটারদের। পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন নূর বক্স লেনের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত দুই সংসদ নির্বাচনে ভোট দিইনি। এবার সকালেই স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি।’ ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে ফজরের পরই ভোটার আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভোটারের উপস্থিতি। যাত্রাবাড়ী প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী। ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের ভোটাররা। তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কেন্দ্রের বাইরে অনেককে দলবদ্ধভাবে সেলফি তুলতে দেখা গেছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ভোটের ফলাফল যা-ই হোক, আমরা মেনে নেব। একজন প্রার্থী পরাজিত হলে পরবর্তী নির্বাচনে সুযোগ থাকবে। আমাদের উচিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ফলাফল মেনে নেওয়া।’