ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সারা দেশে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ঠ উদ্দীপনা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। গতকাল ভোট গ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে তারা এ প্রতিক্রিয়া জানান। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের চলমান সাধারণ নির্বাচন বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।
গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে সহকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। এরপর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। এদিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারম্যান নানাআকুফো-আড্ডো।
ঢাবির কার্জন হলে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহী। এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমরা ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দীপনা দেখছি। আমরা চাই বিকাল পর্যন্ত এই উৎসাহ বজায় থাকুক। সারা দেশে অবস্থান করা মিশনের অন্যদের থেকে একইরকম তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। সারা দেশে মোতায়েন করা পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে প্রতিবেদন, তথ্য পাচ্ছি। ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে না। তারা কেবল ভোট পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে পরিদর্শন শেষে গতকাল দুপুরে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারম্যান নানাআকুফো-আড্ডো বলেন, এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে। আশা করছি, দিনের অবশিষ্ট সময়ও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশের এই সুদৃঢ় সংকল্প দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই তরুণ এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব রক্ষায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যা কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য দেশের যুবসমাজের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বর্তমান নির্বাচনটি এমন এক সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক, শাসনব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা বিদ্যমান। কমনওয়েলথ সনদে গণতন্ত্রকে অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৩৯৪ জন পর্যবেক্ষক এসেছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের ২২০ জন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট ২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ১৯ জন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) একজন, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) থেকে দুজন, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইক্যাপ) থেকে দুজন এবং ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে একজন আছেন। এ ছাড়াও বিশ্বের ২১টি দেশের পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে তুরস্কের ১৩ জন, শ্রীলঙ্কার ১১, পাকিস্তানের ৮, মালয়েশিয়ার ছয়জন, জাপানের চারজন, চীনের তিনজন, ইন্দোনেশিয়ার তিনজন, রাশিয়ার দুজন, দক্ষিণ কোরিয়ার দুজন, ভুটানের দুজন, ফিলিপাইনের দুজন, নেপালের একজন উল্লেখযোগ্য।