৮০ বছরের বৃদ্ধ মোরশেদ আলী খুঁড়িয়ে লাঠি ভর করে এসেছিলেন ভোট দিতে। কয়েক বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় তার এক পা নষ্ট হয়ে যায়, ভোট তাকে দমাতে পারেনি। খুঁড়িয়ে হেঁটে আসেন তিনি ভোট কেন্দ্রে। তারপর দ্বিতীয় তলায় উঠে যান এবং সেখানেই ভোট দেন পছন্দের ব্যক্তিকে। এই ভোট দিতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
গতকাল সকাল ১০টা ৪০-এ ঢাকা-১৩ আসনের সরকারি সংগীত কলেজের চিত্র এটি। ভোট দিয়ে প্রবীণ মোরশেদ আলী বলেন, ‘আমি প্রতিবারই ভোট দিতে আসি। এবার ভোটের পরিবেশ খুব ভালো। ওপরে ওঠার সময় নিচে অনেকেই সাহায্য করেছেন, ভিতরে (ভোটকক্ষ) পৌঁছে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ৮০ বছরে বহুবার ভোট দিয়েছি। নিজের ভাষায় তিনি বলেন, ‘আর ভোট দিতে পারুম কিনা জানি না। কয় বছর আগে এক্সিডেন্টে পা নষ্ট হলেও ভোট দেওয়া বাদ দেই নাই। দোয়া করবেন, যেন বেঁচে থাকলে সামনেও ভোট এলে দিতে পারি।’ ওই কেন্দ্রে মোরশেদ আলীর মতো আরেক বৃদ্ধকে দেখা যায় যিনি শারীরিক সমস্যার কারণে ছেলের সঙ্গে অটোরিকশায় করে ভোট কেন্দ্রে আসেন। তিনি হলেন, ৭৯ বছর বয়সি মনিরুল ইসলাম। শারীরিক সমস্যা থাকলেও কেন্দ্রে পৌঁছান নিজের ভোট দিতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রিকশাসহ তাকে ভোট কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। প্রবেশের পর তার ছেলে ধরে তাকে রিকশা থেকে নামান। এক হাতে ছেলে আরেক হাত রিকশাচালক ধরে তাকে এগিয়ে নিয়ে যান ভোটকক্ষের দিকে। কেন্দ্রে ঢোকার পর তাকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়।
নুরুজ্জামান নামে ৭৬ বছরের আরেক বৃদ্ধকে সিঁড়ি দিয়ে ধরে দোতলায় উঠাচ্ছিলেন তার স্বজনরা। হাঁটতে হাঁটতে নুরুজ্জামান বলেন, ‘ভোট দিতে আসলাম, যদি জীবনের শেষ ভোট হয়! বলা যায় না, বয়স হয়েছে!’ সঙ্গে থাকা স্বজন পরিচয় দিয়ে একজন বলেন, ‘সকাল থেকে বলতে ছিল আমাকে নিয়ে যাও, আমার ভোট দিতে ইচ্ছে করতেছে। বাসার সবাই নিয়ে এলো ইচ্ছেটা পূরণ করতে। এমন বয়সে উনাকে নিয়ে বের হওয়াটা মুশকিল, বাসায় বিছানায় শুয়ে থাকেন।’ সরকারি সংগীত কলেজে দুটি পুরুষ কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ৭ হাজার ৪৪৭ জন। দ্বিতীয় তলার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ‘সকাল থেকে ভোটারদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই কেন্দ্রে অনেকেই এরকম বয়স্ক ভোটার আছেন। আমরা তাদের বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা সেবা করতে আন্তরিক।