সকাল ১০টা। রাজধানীর বনানী মডেল স্কুলের নারী ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ লাইন স্কুলের মাঠ পেরিয়ে প্রধান ফটক পর্যন্ত। অধিকাংশ ভোটারই নিম্ন আয়ের মানুষ, কড়াইল বস্তির বাসিন্দা। সবার মধ্যে ভোট দেওয়ার উচ্ছ্বাস, নতুন সরকারের কাছে ভাগ্যবদলের প্রত্যাশা। শুধু এই কেন্দ্র নয়- উৎসবের আমেজে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ কড়াইল বস্তির নারী-পুরুষ-বৃদ্ধ সবাই আশপাশের কেন্দ্রে ভোট দিতে ছুটেছেন। প্রার্থীদের দেওয়া রিকশা সুবিধায় তাদের আনন্দ যেন আরও বেড়েছে। বাসাবাড়িতে কাজ করা হেলেনা বেগম বলেন, ‘ভোট দেওয়া প্রার্থীদের পাওনা। তাই সবাই এসেছি।’ তার স্বামী রফিকও অন্য কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। যাতায়াতে প্রার্থীদের রিকশার ব্যবস্থা তাদের জন্য সুবিধার হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক লাকি আক্তার বলেন, নতুন ভোটার হিসেবে তিনি খুব আনন্দ নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। তবে ভিড় বেশি হওয়ায় সময় লাগছে, এতে শিশুদের কষ্ট হচ্ছে। ভোট গ্রহণের গতি বাড়ানোর প্রত্যাশা জানান তিনি। গৃহবধূ জাহানারা বেগমের ভাষায়, ‘আজ আমাদের ঈদের খুশি।’ আকলিমা নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, আগের সরকার কড়াইল বস্তির উন্নয়ন করেনি, নতুন সরকারের কাছে উন্নয়নের আশা তাদের। কেন্দ্রটিতে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ নয়, এলিট শ্রেণির ভোটাররাও লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। উত্তরখান থেকে ভোট দিতে আসা বিটিসিএলের সাবেক এক কর্মকর্তার স্ত্রী রোকসানা হক বলেন, আগে বনানীতে থাকতেন বলে এখানকার ভোটার তিনি। ভোট উৎসবে অংশ নিতেই দূর থেকে এসেছেন। কড়াইল টিঅ্যান্ডটি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ভোট দেন অটোরিকশা চালক মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানে জোর দিলে নতুন সরকার খেটেখাওয়া মানুষের উপকার হবে। ‘অটোরিকশা চালিয়ে পাঁচজনের সংসার চালানো কঠিন। বস্তিতে থেকেও ৫-৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। পুনর্বাসন করলে জীবনটা ভালো চলবে,’ বলেন তিনি। উল্লেখ্য, কড়াইল বস্তি ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন। এর মধ্যে প্রায় ১০০ একর আয়তনের কড়াইল বস্তিতে ভোটার প্রায় ৪৫ হাজার। আসনটিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি চেয়ারম্যান ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমান ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।