ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের একটি বড় অংশে জয়জয়কার দেখা গেছে বিএনপির। বরিশালের ছয়টি আসনেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। লক্ষ্মীপুর বিএনপি-প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। দলটি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জিতেছিল। ২০১৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। একতরফা ওই নির্বাচনে সব আসন আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। তবে আবারও জেলার সবকটি আসন জিতেছে বিএনপি। নোয়াখালী ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। আর একটিতে জয় পেয়েছে ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী। ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থীরা। কক্সবাজারের চারটি আসনের সবকটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের ১৪টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। ভোলার চারটি আসনের সবকটিতে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফলে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এদিকে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি একটিতে খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান বিজয়ী হয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামী কোনো আসনেই জিততে পারেনি। সিলেট জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। জেলার চারটি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনটি ছাড়া বাকি তিনটি আসন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। এসব আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে এলেও এবারের নির্বাচনে ভিন্ন ফল দেখা গেছে। মৌলভীবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনেই নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। জেলার সবকটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই দাপুটে বিজয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। প্রতিটি আসনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় জেলায় দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে আটটিতে বিএনপি এবং একটি করে আসনে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জয় পেয়েছে। অন্যদিকে একটি আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ (প্রিন্স) দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী। গাজীপুরের পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের সবকটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইলের আটটি আসনের সাতটিতে বিএনপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন। অন্য একটিতে জয়লাভ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মুন্সিগঞ্জ জেলার ৩টি সংসদীয় আসনেই বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের চারটিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত চারজন প্রার্থী। একটিতে ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। শরীয়তপুরের ৩টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। মাদারীপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের দুটিতে বিএনপির প্রার্থী ও একটিতে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। মাগুরার দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং একটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুরের ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। আর একটিতে বিজয়ী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। লালমনিরহাটের তিনটি আসনের মধ্যে সবকটিতে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নাটোরের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।