ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে বিজয়ী হলেও বিএনপির চার প্রার্থীর চূড়ান্ত ফলাফল ঝুলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীর, শেরপুর-২ আসনে ফাহিম চৌধুরী ও কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। এর মধ্যে ঋণ খেলাপের অভিযোগ এনে আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) আবেদন মঞ্জুর করে এ দুই আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে বলেন আদালত। অন্যদিকে ফাহিম চৌধুরীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে জামায়াত প্রার্থীর এবং মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্রে দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেস প্রার্থীর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন আদালত। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ দুই আসনে ফলাফল প্রকাশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও আপিলকারীরা মামলায় জয়ী হলে শপথ গ্রহণের পরও বাতিল হতে পারে তাঁদের সংসদ সদস্য পদ।
বেসরকারি ফলাফলে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিকী ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি পর্যন্ত এ দুই আসনে কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হচ্ছে না। এ ছাড়া শেরপুর-২ আসনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ফাহিম চৌধুরী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মোবাশ্বের আলম ভূইয়া ৪৫ হাজার ৬৯৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ১৫০ ভোট।