রাজধানীজুড়ে ফাল্গুনী রঙের উচ্ছ্বাস। সেই উচ্ছ্বাসে উত্তাপ ছড়িয়েছিল বাসন্তী আবিরে ভালোবাসার কপোতকপোতীদের হাতে হাত রেখে ভালো লাগার পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রানী/দেবো খোঁপায় তারার ফুল’ প্রিয়তমার প্রতি দ্রোহ, প্রেম, চেতনার কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এমন মধুর আবাহনে সাড়া দিয়ে এ যুগের প্রেমিকরাও তাদের প্রিয়ার খোঁপায় ফুল গুঁজে দিয়ে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে দিনভর উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনায় মেতে উঠেছিল। ঋতুরাজের প্রথম দিনে বসন্তকে অভিবাদন জানিয়ে ফাগুন মিশ্রিত ভালোবাসায় এভাবেই মজেছিল এ যুগের রোমিও-জুলিয়েটরা। বাসন্তী ভালোবাসার এমন দিনে রাজধানীজুড়ে ছিল ভালোবাসার মিছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, চারুকলা অনুষদ, শাহবাগ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, নয়নাভিরাম হাতিরঝিল, বেইলি রোডের ফাস্টফুডের দোকানসহ রাজধানীর সর্বত্রই ছিল কপোত-কপোতীদের ভালোবাসা দিবস পালনের চিত্র। নীল খামে কবিতার পঙ্ক্তির যুগ না থাকলেও মুঠোফোনের খুদে বার্তায় শুভেচ্ছা, হোয়াটসঅ্যাপের লাভ ইমুজির সঙ্গে হৃদয়ের গহিনের স্বপ্নের কথা তুলে ধরতে ভোলেনি প্রেমিকযুগলরা। চকলেট, পারফিউম, ফুলসহ নানা ধরনের উপঢৌকনের মাধ্যমে পরস্পর পরাণের গহিনের ভালোবাসার উষ্ণতা বিনিময় করেছে। এদিকে গতকাল ছিল বসন্তেরও প্রথম দিন। নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনে ভালোবাসা মিশ্রিত ফাগুনের এমন দিন উদযাপন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। পলাশ ফোটা কৃষ্ণচূড়ার ডালের আগুনঝরা এমন দিনে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ শীর্ষক বসন্ত উৎসব ১৪৩২। এটি সংগঠনটির নিয়মিত আয়োজনের ৩২তম আসর। বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সকাল ৮টায় এ উৎসবের উদ্বোধন হয়। এরপর সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় দেশের অগ্রগণ্য নৃত্য ও সংগীতের দলসমূহ, বরেণ্য শিল্পীরা, শিশু-কিশোর ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীরা। এতে আরও ছিল বসন্ত কথন পর্ব, প্রীতি বন্ধনী বিনিময় ও আবির বিনিময়।
পরিষদের সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বসন্ত কথন পর্বে বক্তৃতা করেন পরিষদের সহসভাপতি কাজল দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। ফাল্গুনী সাজে শিল্পীদের পরিবেশনায় বসন্তের আবহ মূর্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থলে। প্রকৃতির এক খণ্ড বসন্ত যেন চিত্রিত হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে।