জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর্যবেক্ষক সংস্থা ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস) জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে এমন ঘটনা চোখে পড়েনি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায়ও একই ধরনের মূল্যায়ন উঠে এসেছে। গতকাল ইওএস ২৯৯টি সংসদীয় আসনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করে।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : পর্যবেক্ষকদের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ইওএসের সভাপতি ইকবাল হোসাইন হীরা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইওএসের প্রধান সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম আপ্পি, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ ও নির্বাহী মাহমুদা পারভীন। ইওএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক বেশি। রাজধানী ঢাকায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। সব কেন্দ্রে ভোটারের সুষম বণ্টন করা হয়নি। কিছু কেন্দ্রে বুথ স্থাপনসংক্রান্ত অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। কেন্দ্র নির্বাচনে অব্যবস্থাপনা এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা কারচুপি দেখা যায়নি। সংস্থাটির সভাপতি ইকবাল হোসেন হীরা বলেন, নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত গুজব ছড়ানো, কিছু স্থানে ভোট প্রভাবিত করার অপচেষ্টা দেখা গেছে। তবে সেগুলো সফল হয়নি এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নির্বাচনের দিন কিছু শক্তিশালী প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা গেছে। পারস্পরিক ব্যক্তিগত আক্রমণের বিচ্ছিন্ন ঘটনাও চোখে পড়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনে দীর্ঘ সময় পাওয়া গেলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব, সক্রিয়তা ও নিরপেক্ষতা একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী পুরো সময়জুড়ে দৃঢ় ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে।