বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ে কলকাতা নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাঁরা এখন নতুন করে মার্কেট জমে ওঠার আশায় দিন গোনা শুরু করেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ‘মাছ যেমন পানি ছাড়া থাকতে পারে না, ভারত ও বাংলাদেশ তেমন একে অন্যকে ছাড়া থাকতে পারে না।’ কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ব্যবসায়ী সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি হায়দার আলী খান বলেন, ‘বাংলাদেশের যে সরকার হতে চলেছে, সে সরকার ভারতের জন্য খুব ভালো। তারেক রহমান একজন খুব ভালো প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। সব মিলিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে পুরোনো সম্পর্ক সেই জায়গায় আমরা ফিরে আসব। পশ্চিমবঙ্গের মিনি বাংলাদেশ বলে পরিচিত নিউমার্কেট আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ মার্কুইস স্ট্রিটে অবস্থিত কলকাতার ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সাইন্সেস (আর এন টেগোর) হাসপাতাল’-এর অধীন একটি আউটলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর খান বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের প্রত্যাশা এবার বাংলাদেশ অগ্রগতির পথে এগোবে।’ নিউমার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মার্কুইস স্ট্রিট কেন্দ্র করে আমরা পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশিদের অভাবে গত দেড় বছরে আমাদের ব্যবসার ওপরে খুব খারাপ প্রভাব পড়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এবার এ অবস্থার স্থায়ী সমাধান ঘটবে।’
কলকাতার নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী পিন্টু ঘোষ বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশের নির্বাচনটা হয়ে যাক। তারপর যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন আমাদের ব্যবসা উজ্জীবিত করা দরকার। তারেক রহমানের সরকার যাতে আমাদের দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে, এটাই আমরা চাই। ভিসার যে সমস্যা আছে, তা সমাধানের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। পর্যটক ভিসা দিলেই আগের মতো বাংলাদেশের নাগরিক এখানে আসা শুরু করবেন।’ শ্যামলী পরিবহনের কালেকশন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন রায় বলেন, ‘আমরা আশা করব তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তারপর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হোক, ব্যবসাবাণিজ্যের উন্নতি ঘটুক, ভিসাব্যবস্থা সচল হোক।’
তিনি বলেন, ‘একটা সময় মার্কুইস স্ট্রিটের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ৮০ শতাংশ লোকই ছিলেন বাংলাদেশের। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে গত দেড় বছরে নিউমার্কেটের ব্যবসাবাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন সরকার এলে এ ব্যবসায় যাতে পুনরুজ্জীবন পায়, সেটাই চাইব।’
শুধু তাই নয়, কলকাতায় ভ্রমণ করতে আসা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকও আশা প্রকাশ করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটা সরকার গঠন হলে সেটা বাংলাদেশের পক্ষে যেমন ভালো, তেমন দুই দেশের সম্পর্কেও একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চিকিৎসা করতে আসা এক বয়স্ক ব্যক্তি জানান, ‘অনেক দিন পর দেশে একটা নির্বাচিত সরকার মিলছে। আমরা চাই সরকার ভালোভাবে চলুক, দেশ ভালোভাবে চালাক। ভারতীয় ভিসা পেতে যে সমস্যা হয় তা-ও যাতে অবিলম্বে দূর হয়, এই আশা রাখি।’