ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর হামলাসহ দেশব্যাপী ভিন্নমতের ভোটার ও সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হুমকি প্রদানের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানান ডাকসু নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের ঘটনা ঘটছে। একদিকে বিএনপি প্রার্থী পরাজয়ের দায় অন্য প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে যেখানে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেখানে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি নয় বছরের শিশুও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিরোধী ও সরকারি দল তাদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবে, এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬৩টি আসন পেয়েছিল। কিন্তু এত বড় বিজয়ের পরও তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের হামলার চিত্র দেখা যায়নি। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এস এম ফরহাদ বলেন, আমরা নতুন করে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই না এবং জুলাই আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন নষ্ট না হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব। সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নথিপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া হবে। দায়িত্বশীল মহলকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।