নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকরা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
খুলনা : শনিবার গভীর রাতে খুলনা-৫ আসনের খানজাহান আলী থানা এলাকার ১ নম্বর আটরা ইউনিয়নের মশিয়ালী গ্রামে জামায়াত সমর্থক শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাঁশ, বসতঘরের লাগোয়া শুকনো কাঠ রাখার ঘর, আশপাশে নারকেল গাছসহ অন্যান্য গাছও আংশিক পুড়ে গেছে। তবে কে বা কারা এ আগুন দিয়েছে তা নিশ্চিত করে কেউ কিছু জানাতে পারেননি। জানা গেছে, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতের খানজাহান আলী থানা শাখার রোকন ও ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের আটরা ইউনিয়ন সভাপতি। ঘটনার সময় রমজান আকুঞ্জি বাড়িতে ছিলেন না। আবদুর রাজ্জাক জানান, নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল তাদের হুমকি দিচ্ছিল। এরপর শনিবার গভীর রাতে কেরোসিন দিয়ে তাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। খানজাহান আলী থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুম জানান, ঘটনাস্থলে কেরোসিনের একটি প্লাস্টিকের খালি বোতল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপির এক নেতাসহ দুজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার দুুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের নদীরপাড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে মজলিশপুর নদীরপাড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। এ সময় জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ লোকজন নিয়ে মিজানুরের ওপর হামলা চালান। তাকে রক্ষা করতে চাচাতো ভাই নায়েব আলী (৫৫) এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
শেরপুর : দুর্বৃত্তরাদের হামলায় শেরপুরে ধানের শীষের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা গিয়াস উদ্দিন রাসেল গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, হামলাকারীরা জামায়াতের কর্মী। তার পথ আটকিয়ে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাটের নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন রাসেল দৈনিক ভোরের চেতনার শেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের রাশেদুল ইসলাম ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর করে আসছে। বিএনপির এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
নাটোর : শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ওয়ালিয়া নতুন বাজারে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের সাতজন আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টার দিকে উপজেলার ওয়ালিয়া নতুন বাজারে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল গ্রুপ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু গ্রুপের মধ্যে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ওয়ালিয়া বাজারের আউলিয়ার চাউলের দোকান থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি দেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : গতকাল সকালে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া খামারপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ও জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে অপর ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ওই ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখন করেছেন। আহত ছাত্রদল নেতার নাম মেহেদি হাসান পাপ্পু (২৫)। তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাপ্পু খামারপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ের রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম : নির্বাচন-পরবর্তী সংহিতায় চট্টগ্রাম বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতনের ছেলে জিতু মাহবুবকে কুপিয়ে যখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার খুলশী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের একদল সদস্য তার ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার শিকার জিতু চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত এমপি সাঈদ আল নোমানের পক্ষে নির্বাচনে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
জিতুর পরিবারের অভিযোগ, নির্বাচনের পরদিন খুলশী এলাকায় চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের নেতা শাহ আলমের নেতৃত্বে গ্যাং সদস্য সোহেল, শাহীন, মুরাদ, বাপ্পী, সুমনসহ কয়েকজন জিতুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। পরবর্তীতে জিতুকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। এ ব্যাপারে খুলশী থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
খুলশী থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে রবিবার জিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।