প্রতিবারই রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে যায়। ইতোমধ্যে রোজা উপলক্ষে শুরু হয়েছে নিত্যপণ্যের বাজারের সেই পুরোনো চিত্র। বিশেষ করে বাজারে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে বেগুন, লেবু, কলা, শসা, কাঁচা মরিচসহ আরও কয়েকটি পণ্যের। নতুন সরকারের দায়িত্বের শুরুতে রমজান হওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ। সরকারও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বক্তব্য নয়, কাজ করে দেখাতে চায়। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী কিছু পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দামে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই দিনের ব্যবধানে বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১২০, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০-২৪০, শসা ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১২০ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। এক হালি ভালো মানের লেবু ১০০ টাকার নিচে মিলছে না। কোথাও ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে বাজারে কলার সরবরাহে ঘাটতি দেখা গেছে। এ সুযোগে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে। প্রতি ডজন বাংলা কলা কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে এ কলা কেনা গেছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। একইভাবে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামের সবরিকলা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ‘এবার আড়তে কলা নাই। বাজারে কলা আসছে না। তাই কলার দাম বেশি।’ রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারের কলা বিক্রেতা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘রোজায় দাম বেশি পাওয়ার আশায় চাষিরা বাজারে কলা কম পরিমাণে সরবরাহ করছেন।’ নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ভরসা ব্রয়লার মুরগির বাজার এখনো চড়া। দুই মাস ধরে ১৫০ টাকার কিছু বেশি ছিল ব্রয়লারের কেজি। সপ্তাহ দুই-এক আগে দর বেড়ে ১৮০ টাকার ঘর স্পর্শ করে। রমজান উপলক্ষে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। অলিগার্ক ও সরকারের মধ্যে যেসব অসৎ কর্মকর্তা জড়িত তাদের দ্রুত শাস্তির আয়তায় এনে রমজানে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ, ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ করা এ সরকারের জন্য অ্যাসিড টেস্ট।’ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে। পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে। পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে।
বাজার চলে বাজারের নিয়মে। হঠাৎ কেনাকাটা বেড়ে গেলে এটি খুচরা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে।’ বাজার সিন্ডিকেট মোকাবিলায় কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেট নিয়ে সাউন্ড বাইট দেব না, কাজ করে দেখাতে চাই।’