শীত মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলের হাজার হাজার আমগাছ মুকুলে ভরে উঠছে। দেশব্যাপী সুস্বাদু আম উৎপাদনের জন্য খ্যাত এ অঞ্চলের বাগানগুলোতে এবার ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। প্রাথমিক পর্যায়ে মুকুলের প্রাচুর্য, ভালো উৎপাদনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফসল তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। আমচাষিরা জানিয়েছেন, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের ঘ্রাণ। মুকুল আসার আগেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যার কাজ শেষ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়। এতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য আবারও ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমেছে। চারঘাট উপজেলার কালুহাটি গ্রামের আমচাষি মোজাফফর হোসেন বলেন, এবার বাগানে আগেভাগেই মুকুল এসেছে। যদি কুয়াশায় নষ্ট না হয়, তাহলে বিপুল আম উৎপাদন হবে। চারঘাট এলাকার আমচাষি মাহফুজ আলী বলেন, সারা বছর গাছের যত্ন নেই বলে ভালো ফলন পাই। এ বছরও গাছের যত্ন নিচ্ছি। ইতোমধ্যে দুয়েকটি গাছে ফুল এসেছে।’ রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার মুকুল বেশ আগেভাগেই এসেছে। কিছু গাছে এখন মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে সব গাছে মুকুল আসবে কি না তা বুঝতে আরও সময় লেগে যাবে। আশা করা যায়, এবার গত বছরের তুলনায় বেশি মুকুল আসবে। তিনি জানান, কৃষকদের বাগান পরিচর্যায় ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরাও বেশি ফলনের আশায় সে অনুযায়ী কাজ করছেন।