আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানগুলো ছেয়ে গেছে মুকুলে। ছড়াচ্ছে ম ম গন্ধ। জেলার ৮০ শতাংশ আমগাছে ইতোমধ্যে মুকুল এসছে। শতভাগ মুকুল আসতে আরও ৭-১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে আশা বাগান মালিকদের। কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া এমন থাকলে প্রায় প্রতিটি গাছই মুকুলে ছেয়ে যাবে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, শীতের বিদায় আর বসন্তের শুরুতে তাপমাত্রার সঠিক ভারসাম্য এবং আর্দ্রতার অনুকূল সমন্বয়ের কারণে এবার মুকুলের হার সন্তোষজনক। চূড়ান্ত ফলন অনেকটা নির্ভর করবে আসন্ন দিনগুলোতে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও কালবৈশাখি ঝড়ের পরিস্থিতির ওপর। অন্য জেলার চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সুস্বাদু হওয়ায় দেশ-বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। আমের ফলন ভাল পেতে বর্তমানে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান পরিচর্যায়। নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ ও রোগ-পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করছেন। এ বছর পরিচর্যার খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা। তাদের মতে, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরির দাম আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। চাষিদের দাবি, প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি সহায়তা বাড়ানো হলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে উৎপাদনে মন দিতে পারবেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ মেট্রিকটন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে চাষিদের।