প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন প্রশাসক। ঢাকার দুই সিটির পক্ষ থেকে প্রশাসকরা অর্থ সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে থোক বরাদ্দ চেয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং গাজীপুরের প্রশাসক শওকত হোসেন সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। সাক্ষাতের পর ঢাকার দুই সিটির প্রশাসক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, গত কয়েক মাসে রাজস্ব খাত থেকে যেভাবে কালেকশন আসার কথা ছিল, তা আসেনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কম রাজস্ব এসেছে। বর্তমানে অর্থ সংকটের মধ্যে আমরা কাজ করছি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছি এবং সিটি করপোরেশন চালানোর জন্য থোক বরাদ্দ চেয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে, আমাদের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আমাদের প্রকল্প ও কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেন, বিগত প্রশাসকরা যে সব ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছেন, সেগুলো অনুযায়ী কাজ করলে সিটি করপোরেশন ধ্বংসের মুখে পড়বে। সেটা কোনোভাবেই করা সম্ভব নয়।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই বেহাল। উত্তর সিটির সাবেক প্রশাসক জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ অফিস করেছেন। সেদিনও তিনি ৩৪টি ফাইল স্বাক্ষর করে গেছেন। করপোরেশনে এখন একেবারেই ভঙ্গুর অবস্থা, কোনো ফান্ড নেই। এদিকে ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, করপোরেশনে এখন কোনো টাকা নেই, মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে বলে জানলাম। রাজস্ব বিভাগে কথা বলে জানতে পেরেছি প্রতি মাসে স্যালারি আসে ১৩ কোটি টাকা। ফলে থাকবে কেবল ১২ কোটি। এখন আপনারাই বিচার বিশ্লেষণ করবেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে করব? তবে, প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমরা হতাশ নই। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব। জনকল্যাণে যতটুক সেবা দেওয়ার প্রয়োজন আছে আমরা সেই সেবা দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করব। জনকল্যাণে আমাদের যে অঙ্গীকার আছে সেটাকে আমরা বাস্তবায়ন করব।