সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি সেনাপ্রধান থাকাকালীন কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছিল। তবে বিষয়টি তার এখতিয়ারের বাইরে থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করেননি।
শতাধিক গুমখুনের ঘটনায় সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আইনজীবীর জেরায় তিনি একথা জানান। গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরে এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ মার্চ দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আবুল হাসান। জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী দাবি করেন, সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা চক্রের দুর্নীতির সঙ্গে ইকবাল করিম ভূঁইয়া নিজেও জড়িত ছিলেন। জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি সত্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকতে কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছিল। তবে দুর্নীতির সঙ্গে আমি নিজেও জড়িত ছিলাম বলে তদন্ত করিনি; এ কথাটি সত্য নয়।’ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, আইনজীবীর এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এই সেনাপ্রধান ‘না’ সূচক জবাব দেন। তিনি জানান, বিষয়টি তার এখতিয়ারভুক্ত ছিল না বলেই তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করলে সেনা আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে জিয়াউল আহসান র?্যাবে কর্মরত থাকায় তার আদেশ অমান্যের জন্য কোনো ‘ওয়ার্নিং’ বা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী হাসান দাবি করেন, সেনাপ্রধান থাকাকালীন ইকবাল করিমের সব বৈধ আদেশই জিয়াউল আহসান মেনে চলেছেন এবং কোনো কিছুই অমান্য করেননি। এর উত্তরে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘জিয়াউল আহসান আমার কোনো বৈধ আদেশ অমান্য করেননি, এ তথ্যটি সত্য নয়।’
এ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গতকাল তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়।
এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারির জবানবন্দি শেষে তাকে প্রথম দফায় জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এরপর ১৮ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ২ মার্চও তাকে আরও তিন দফায় জেরা করা হয়।