সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে শৃঙ্খলা ফেরানোর। জনপ্রত্যাশা পূরণে ইতোমধ্যে শুরু করেছেন কাজ। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নগর ভবনকে নাগরিক প্রত্যাশা পূরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার নানা পরিকল্পনার কথা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী।
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিহীন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। প্রশাসননির্ভর কর্মকর্তা দিয়ে পূরণ করা যাচ্ছিল না জনপ্রত্যাশা। বাড়ছিল ভোগান্তি। সেবার পরিবর্তে দুর্ভোগের নাম হয়ে ওঠে সিসিক। ঠিক এ সময়ে প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। জনসম্পৃক্ত এই নেতা প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ায় সক্রিয় হচ্ছে নগর ভবনের সেবাখাতগুলো।
নগর ভবন পরিচালনায় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিনের মধ্যেই বুঝেছি দায়িত্ব পালনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আর সব দায়িত্বেই চ্যালেঞ্জ থাকে। চ্যালেঞ্জ জয় করে দায়িত্ব পালন করেই সফল হতে হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল ও পরবর্তীতে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন পর্যন্ত জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নগর ভবনকে জনমানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়নি। এখন দেশে জনগণের সরকার, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়। তাই জনপ্রত্যাশাও বেড়েছে। তাই সবার সহযোগিতা নিয়ে সিটি করপোরেশনকে একটি জনবান্ধব এবং নাগরিক প্রত্যাশা পূরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরে সঙ্গে পরামর্শ করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করব।’ নাগরিকসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে নগর ভবনে কী কী সমস্যা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, পুরো নগর ভবনই সমস্যায় জর্জরিত। করপোরেশনের নিজস্ব আয় খুবই সীমিত। নাগরিক সেবার প্রতিটি খাত দুর্বল ভিত্তির ওপর রয়েছে। মশার উপদ্রব, জলাবদ্ধতা, ভঙ্গুর ট্রাফিক ব্যবস্থা, সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে চলে যাওয়া, সুপেয় খাবার পানি সংকট রয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন অনেক জায়গা-জমি বেহাত হয়ে গেছে। ভুয়া মামলা দিয়ে একটি গোষ্ঠী এগুলো জবরদখল করে রেখেছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে চাই। দায়িত্বের শুরুতে অগ্রাধিকার হিসেবে মশার উপদ্রব কমাতে চান বলে জানিয়েছেন প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘মশার উপদ্রবে নগরবাসী অতিষ্ঠ। অগ্রাধিকারভিত্তিতে মশক নিধন করতে চাই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামনে বর্ষা মৌসুম। প্রতিবছর বর্ষায় নগরবাসীকে জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়। এ অবস্থা থেকে আমরা নগরবাসীকে পরিত্রাণ দিতে চাই। এ জন্য ছড়া খাল ও ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা নেব। হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গ টেনে কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, হকারদের লালদিঘী মাঠে যেতেই হবে। সুযোগ পেলেই ওরা ফুটপাত থেকে শুরু করে সড়ক পর্যন্ত দখল করে ফেলে। আমরা কিনব্রিজ থেকে আম্বরখানা পয়েন্ট পর্যন্ত একজন হকারও দেখতে চাই না। শিগগির হকার নেতাদের ডেকে কঠোরবার্তা দেওয়া হবে। অতীতে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত অনেক কাজ হয়েছে। এতে সেবার পরিবর্তে দুর্ভোগ বেড়েছে; অপচয় হয়েছে অর্থের। আগামীর উন্নয়ন কতটুকু পরিকল্পিত হবে জানতে চাইলে কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, সিলেট শহরে অনেক অপরিকল্পিত কাজ হয়েছে। বক্স ড্রেনগুলোর ওপর কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ‘পেভমেন্ট টাইলস’ বসানো হয়েছে। ম্যানহোল মার্ক রাখা হয়নি। এখন যখনই ড্রেন পরিষ্কার করার প্রয়োজন হচ্ছে তখন টাইলস ভেঙে ম্যানহোল খুঁজতে হচ্ছে। এগুলো অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। আগামীতে প্রকল্পের নামে এভাবে আর অর্থের অপচয় যাতে না হয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকব। সিলেটের দুই মন্ত্রী বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী উভয়েই সিলেটের উন্নয়নে আন্তরিক বলেও জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, দুজনই উন্নয়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি সবার সহযোগিতায় সিলেট হবে একটি বাসযোগ্য নগরী।