ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তিন সদস্যের গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ওই শিক্ষিকার গলার ডান পাশের নিচের দিকে ধারালো ছুরি বা কোনো ধারালো অস্ত্রের একটি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। এতে গলার বড় রক্তনালি কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বুকে, পিঠে, পেটে ও হাতে অন্তত ২০টি আঘাত রয়েছে। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এদিকে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীর ফাঁসি, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধসহ কয়েক দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ ছাড়া বিকালে ইবি থানায় ঘাতক ফজলুর রহমানসহ চারজনের নামে মামলা করেছেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। এ ছাড়া হত্যা সংঘটিত হওয়ার কক্ষসহ ওই বিভাগের তিনটি কক্ষ ও মূল ফটক সিলগালা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ওই শিক্ষিকার কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষিকা ও আত্মহননরত কর্মচারীকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই কর্মচারীকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পুলিশ তার থেকে দুই পাতায় লিখিত স্টেটমেন্ট নেয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ওই লিখিত স্টেটমেন্টে তিনি ‘বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক বদলি ও বেতন বন্ধ’ করায় মনের ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।