মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া ৩৭৮ জন বাংলাদেশি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন। গতকাল সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ দিন ভোরের দিকে ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেক যাত্রী ও স্বজনের চোখে জল দেখা যায়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী ও যাত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়েন। তাঁদের ফিরিয়ে আনতেই দুবাই এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পরে স্থানীয় সময় রাতে দুবাই থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করে।
এ ফ্লাইটে দেশে ফেরা অনেক যাত্রীই কয়েক দিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন বলে জানান। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আগে থেকে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় আটকে পড়েছিলেন। দুবাইপ্রবাসী নোয়াখালীর বাসিন্দা নোমান সিদ্দিকী জানান, তাঁর দেশে ফেরার ফ্লাইট ছিল ১ মার্চ। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। পরে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পেরেছেন। দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় তিনি থাকতেন এবং তাঁর বাসার কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট অফিস রয়েছে। সেখানে হামলা ঘটেছে।
বিমানের ২৭ ক্রুকে ফিরিয়ে আনল ইউএস-বাংলা : ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৭ জন ক্রুও দেশে ফিরেছেন। যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর থেকে তাঁরা প্রায় পাঁচ দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে ছিলেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ওই ক্রুরা অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন এবং তাঁদের পরিবারও দেশে উদ্বেগের মধ্যে ছিল। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাঁদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী ও প্রবাসী কর্মী ভোগান্তিতে পড়েন। ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার জন্য আরও একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।