কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার লগ্নসার গ্রামের কামাল হোসেন। ধারদেনা করে জীবিকার তাগিদে গেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। সৌদি আরবে তার কর্মরত এলাকায় আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন। ফের হামলার শঙ্কা ভর করেছে ওই এলাকার লোকজনের। এদিকে তার চিন্তায় দেশের বাড়িতে উৎকণ্ঠায় পরিবারের লোকজন। তাদের শঙ্কা কখন ছেলে না জানি দুর্ঘটনায় পড়েন। কখন খারাপ খবর আসে! শুধু কামাল হোসেনের পরিবার নয়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১১ জেলার মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ৪০ লাখের অধিক প্রবাসীর পরিবার দিন কাটছে শঙ্কা ও আতঙ্কে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো তথ্য অনুয়ারী- চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার ৪০ লাখের অধিক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং ওমানে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন সৌদি আরবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত রয়েছেন ৬ লাখ, কাতারে ৫ লাখ, কুয়েতে ৪ লাখ এবং ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন ৬ লাখের কিছু বেশি। এ ছাড়া প্রতি বছর চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ছয় থেকে সাত লাখের মতো শ্রমিক নতুন করে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ যায় সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতে।
জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আবর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমানসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার কমপক্ষে ৪০ লাখ শ্রমিক। যাদের মধ্যে নব্বই শতাংশই কর্মরত রয়েছেন সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতারে। সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার, নোয়াখালী জেলার। আমেরিকা-ইসরায়েলি বাহিনীর ইরানে আক্রমণ এবং ইরানের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে পাল্টা জবাবের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজেছে। ইরানের ছোড়া একের এর এক মিশাইল ছুটে প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশের লাখ লাখ প্রবাসীর প্রতিটি পরিবার-পরিজনের মাঝে ভর করেছে দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার ছায়া। রয়েছে ইরানি মিশাইলের হামলায় প্রাণের শঙ্কা। দূর প্রবাসে যখন তাদের জীবন শঙ্কা নিয়ে দিন কাটছে, ঠিক দেশে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের পরিবার পরিজনের। কেননা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে প্রবাসীরা জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন কমবেশি সবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একাধিক স্বজন কর্মরত রয়েছেন নগরীর চকবাজার এলাকার আবদুল মান্নানের। তিনি বলেন, ‘দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল সিটিতে আমার একাধিক আত্মীয় অবস্থান করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বজনদের জন্য আতঙ্কে আছি।
ভয় হচ্ছে কখন ইরানি বোমা আঘাত হানে। দোয়া করছি এ যুদ্ধ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুরুল আবসারের স্ত্রী শামীমা আকতার বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটছে। দোয়া করি সব প্রবাসী যেন নিরাপদে থাকেন।
লাকসামের মনপাল গ্রামের আবদুর রশিদ থাকেন বাহারাইন, জাহাঙ্গীর আলম থাকেন কাতারে। তাদের স্বজনদেরও দিন কাটছে উৎকণ্ঠায়। আবদুর রশিদের ছোট ভাই জিয়াউর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের আশপাশে বোমা ফেলা হচ্ছে। তিনি ঠিক মতো বাইরে যেতে পারেন না। এদিকে এদের মতো কুমিল্লার ১৭ উপজেলার প্রবাসীর স্বজনদেরও দিন কাটছে উৎকণ্ঠায়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি প্রবাসী কুমিল্লা জেলার। তাদের অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি এপর্যন্ত আমাদের কোনো প্রবাসী নেতিবাচক কোনো ঘটনার সম্মুখীন হননি।