আজ শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কয়েক দিন ধরে এদিনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন প্রকাশকরা। কারণ এমন দিনে পাঠকদের ঢল নামে অমর একুশে বইমেলায়। বরাবরের মতো আজ ছুটির দিনে মেলায় ঢল নামবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশকদের। গতকাল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে মেলার অষ্টম দিন ফাঁকা ছিল স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। জনমানবহীন মেলা প্রকাশকদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এদিন দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত অলস সময় কাটিয়েছেন বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা। হতাশা প্রকাশ করে শিলা প্রকাশনীর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, যা বিক্রি হয়েছে তা দিয়ে স্টলের স্টাফদের ইফতার কেনার টাকাও ওঠেনি। বাসা থেকে টাকা এনে স্টাফদের ইফতারি কিনলাম। এরকম নাজুক পরিস্থিতির করোনাকালীন মেলাতেও হয়নি বলে জানান তারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রকাশনাশিল্প ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না বলেও মনে করেন এই প্রকাশক। বর্ণমালা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশীদ বলেন, রমজানে মেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি আমাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, এবারের মেলায় অংশ নিয়ে আমরা নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছি। সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্যের ব্যানারে আমরা ৩২১ জন প্রকাশক এবারের মেলায় অংশ নিতে চাইনি। বাংলা একাডেমি বিনাভাড়ায় স্টল দিলেও স্টল নির্মাণের খরচটাও আমরা তুলতে পারব না। এরকম পরিস্থিতি করোনাকালীন মেলাতেও হয়নি। শুক্রবার (আজ) মেলায় ভিড় নামবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানাও জানান, তারা শুক্রবারের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, কোনোমতে এ সপ্তাহ কাটিয়ে দিয়ে আমরা শুক্রবারের অপেক্ষায় ছিলাম। কাল (আজ) শুক্রবার থেকে মেলা চিরচেনা রূপে ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাসুদ রানা।
নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার অষ্টম দিনে নতুন বই বের হয়েছে ৯২টি। আর গত আট দিনে মেলায় মোট নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ৩৭৪টি।
মূল মঞ্চ : বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ : সুকান্ত ভট্টাচার্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।
এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুমন সাজ্জাদ। আলোচনায় অংশ নেন আহমেদ মাওলা। সভাপতিত্ব করেন আবদুল হাই শিকদার। আলোচনা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শোভা চৌধুরী।
আবৃত্তি করেন শাকিলা মতিন মৃদুলা এবং সালমা সুলতানা। সংগীত পরিবেশন করেন আবদুল লতিফ শাহ, এলাহী মাসুদ, ডলি মণ্ডল, শামীম সালাম, সাইফুল ইসলাম, মো. আলতাফ হোসেন ও জাকির হোসেন আখের।