কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের চার দিন পর ব্যাংক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে কালিকাপ্রসাদ বিসিক শিল্পনগরীর বিপরীত দিকে রেললাইনের পাশে একটি ঝোপের ভিতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল ভৈরব থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
আলমগীর হোসেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর লম্বাহাটি গ্রামের মৃত আবদুল মজিদ সরদারের ছেলে। তিনি জনতা ব্যাংক ভৈরব বাজার শাখায় কর্মরত ছিলেন। আলমগীরের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার জানান, গত রবিবার সকালে ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তার স্বামী। রাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় ব্যাংকে খবর নিয়ে জানতে পারেন তিনি ব্যাংকে যাননি। রাতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ না পেয়ে রাতেই থানায় জিডি করা হয়। গত চার দিন পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। বুধবার মাটি কাটার কয়েকজন শ্রমিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন গত পাঁচ বছর আগে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় তাছলিমা আক্তার নামের এক শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। তাসলিমা ভৈরবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। আলমগীর তার পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি কালিকাপ্রসাদ এলাকায় থাকতেন। আলমগীর গত বছরের আগস্ট মাসে জনতা ব্যাংক ঢাকার একটি শাখা থেকে বদলি হয়ে ভৈরব বাজার শাখায় যোগদান করেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো বলে জানা গেছে। তাছলিমা আক্তার স্বীকার করেন, স্বামীর সঙ্গে মাঝে-মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে মনোমালিন্য হতো। তবে ঘটনার দিন কোনো ঝগড়া হয়নি।
ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, লাশের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ দেখে মনে হচ্ছে কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। ঝোপের ভিতরে লাশ থাকায় কেউ দেখেনি। দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসী লাশের খোঁজ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।